fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

হাসপাতালের কার্নিশ থেকে রোগীর মরণঝাঁপ, মৃত যুবক, ছেলের ডাকেও সাড়া দিল না বাবা

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: আজ এক মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা। মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট নিউরো সায়েন্সের আটতলার মাথায় উঠে বসে আছে রোগী। এই ঘটনা দেখে একদিকে যেমন শিউরে ওঠে মানুষ, ঠিক তেমনি পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে পড়ে। রোগীকে বার বার হাসপাতালের জানলার ভিতর থেকে কর্মীরা হাত বাড়িয়ে ডাকলেও সে অসম্মতি জানায়। কিছুক্ষণ পরে স্কাই ল্যাডার সহ দমকল, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ এসে হাজির হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড়ঘন্টা ধরে চলে এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। ল্যাডার রোগীর সামনে গেলেই সে জানিয়ে তাদের দূরে চলে যেতে বলে। এমকী ল্যাডারে করে পরিবারের এক ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুতেই নামতে চায় না। এমনকী দমকল কর্মীরা নানাভাবে তাকে বিস্কুট, কোল্ড ড্রিঙ্কস দেখিয়ে তাকে নামানোর চেষ্টা করলেও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পরেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। হঠাৎ করেই কার্নিশের ওপর থেকে লাফ দেয় সেই ব্যক্তি। এক মুহূর্তের মধ্যেই সব ওলটপালট হয়ে যায়। সজোরে আট তলার কার্নিশ দিয়ে হাত ফসক প্রথম পঞ্চম, ছয়তলার ধাক্কা খেয়ে সজোরে বেসমেন্টে পড়েন ওই রোগী। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি।হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন ৩৩ বছর বয়সী সুজিত অধিকারী। হাসপাতালে বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে আপাতত ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুজিত৷ ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছে তাঁকে৷

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, সুজিতকে জানলা খুলে কার্নিশ দিয়ে নামতে দেখেই বাধা দিতে যান এক নার্স। কিন্ত তাকে দিয়ে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন সুজিত। এর পরেই সে জানলা দিয়ে কার্নিশে এসে বসে পড়ে। লেক টাউনের বাসিন্দা ছিলেন সুজিত অধিকারী৷ বাধ্য হয়েই হাত সরিয়ে নিয়েছিলেন সেই নার্স।

খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে পৌঁছন সুজিতের পিসি এবং ভাইও৷ তাঁরাও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন৷ ভিডিও কলের মাধ্যমে সুজিতের ৯ বছরের ছেলেকে দিয়েও তাঁকে ডাকানো হয়৷ কিন্তু ছেলের ডাকে সাড়া দেননি সুজিত।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, চোখের সামনে রোগীকে আট তলার কার্নিশ থেকে পড়ে যেতে দেখে হাসপাতালেরই তিন জন কর্মী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন৷

মল্লিকবাজারের ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ২৩ তারিখ হাসপাতালের আট তলার এইচডিইউ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল সুজিতকে৷ এ দিন সেই ওয়ার্ডেই নিজের বেডের পাশের জানলা খুলে কার্নিশে নেমে পড়েন সুজিত৷ কীভাবে রোগী জানলার লক খুলে বাইরে বেরিয়ে এলেন তা প্রশ্নের মুখে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমান, সম্ভবত রোগীদের শয্যা ওঠানো নামানোর জন্য ব্যবহৃত হাতল বা বেড কি দিয়ে জানলার স্ক্রু ভেঙে ফেলেন সুজিত৷ কারণ, সুজিত যে কার্নিশে নেমেছিলেন, সেখানে একটি বেড কি মিলেছে৷ আর ওয়ার্ডের মধ্যেই জানলার নীচে পড়েছিল একটি স্ক্র৷ পাশের বেডের রোগীও অসুস্থ থাকায় তিনিও কিছু বুঝতে পারেননি৷

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জানলা যথেষ্ঠ সুরক্ষিত ছিল। কোনও সুস্থ মানুষের পক্ষেও সেই লক ভাঙা সম্ভব ছিল না। হাসপাতালে নিরাপত্তা বাড়ানো সহ ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তও করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, মাঝখানেক আগেই সুজিতের স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন। এর মধ্যে একদিন ঘুরে পড়ে যাওয়ায় দু’ দিন আগে তাঁকে মল্লিকবাজারের ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়৷ শনিবারই তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। সুজিতের একটি ৯ ও ৬ বছরের শিশুপুত্র রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close