fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

খাবার নিম্নমানের, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সামিল করোনা আক্রান্ত রোগীরা

মিলন পণ্ডা, কাঁথি (পূর্ব মেদিনীপুর): করোনা আক্রান্ত রোগীদের রাস্তা অবরোধ। দাঁড়িয়ে থাকা বাস থেকে নেমে ছোটাছুটি শুরু করলো বাসের যাত্রীরা। ঘটনার পর গোটা কাঁথি শহরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খাবারের মান এতটাই নিম্নমানের। প্রতিদিনের পরিমান মতো খাবার পাচ্ছে না করোনা আক্রান্ত রোগীরা। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামলো করোনা আক্রান্ত রোগীরা। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘা নন্দকুমার ১১৬ বি জাতীয় সড়কে মেচেদা বাইপাস সংলগ্ন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান করোনা আক্রান্ত রোগীরা।

 

সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কাঁথির সঞ্জীবনী বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে করা হয়েছে। কাঁথি মহাকুমার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা করোনা আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই কাঁথির সঞ্জীবনী হাসপাতালে খাবার নিম্নমানের দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানায় করোনা আক্রান্ত রোগীরা। তাদের অভিযোগ কোনো ভাবেই গুরুত্ব দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বাঁচার তাগিদে মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দীঘা নন্দকুমার ১১৬ বি জাতীয় সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে করোনা আক্রান্ত রোগীরা। অবরোধের জেরে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী লরি। যাত্রীবাহী বাস থেকে যাত্রীরা নেমে ছোটাছুটি শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভের সামিল হয়। ঘটনার পর কাঁথি শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কাঁথি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অবশেষে বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ। আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেয় করোনা আক্রান্ত রোগীরা। কাঁথি থানা পুলিশের উপস্থিতিতে জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

করোনা আক্রান্ত এক রোগী প্রতীক ভূঞ্জ্যা বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। থাকা খাওয়া সব পরিষেবা পুরোপুরি নিম্নমানের। খাবার এতটাই নিম্নমানের যে মুখে দেওয়া যাবে না। সকালের টিফিনে বাসি খাবার দেওয়া হচ্ছে। বাথরুমে ব্যবহার করা যাবে না। কাঁথির সঞ্জীবনী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য দাবি জানান। কাঁথির সঞ্জীবনী বেসরকারি হাসপাতালের মালিক নন্দদুলাল দাস বলেন, খাবার ও পরিসেবা অব্যবস্থা কথাটা ঠিক নয়। গত দু’দিন ধরে সমস্যা হয়েছে।তিনি আরও বলেন কিছু রোগী হাসপাতালে ভেতরে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে বচসা হয়। তার ফায়দা তুলতে এরকম করছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলা আধিকারিক সুব্রত রায় বলেন, হাসপাতালের অবস্থা কথা কার্যত স্বীকার করে নেন।এনিয়ে অনেক দিন থেকে শুনছিলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলা হয়েছিল। করোনা আক্রান্ত রোগীদের আন্দোলনে নামা খুব বিপদজনক ঘটনা। রোগীদের যদি শান্ত করা যায় তাহলে ঠিক আছে। না হলে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close