fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সোশ্যাল মিডিয়াকে পাশে নিয়ে বাঁচার রসদ খুঁজছেন চণ্ডীপুরের পটুয়ারা

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: লকডাউনে নাজেহাল ৮ থেকে ৮০।দীর্ঘ দিন ঘরবন্দি সাধারণ মানুষ।কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেকেই, লাটে উঠেছে ব্যবসাপত্র।দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগার করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে সাধারণের। এককথায় চারপাশের সবকিছু থমকে গিয়েছে। লাভক্ষতির অঙ্ক কষতেই ব্যস্ত মধ্যবিত্ত।অসহায় ওঁরা নিজেরে পেশা বাঁচাতে মরিয়া।এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে লড়াই চালাছে পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়াপাড়ার পটশিল্পীরা। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের নানকারচক ও হবিচকে বসবাস ১৫০ পরিবারের। এর মধ্যে ১০০ পরিবারের প্রায় ১৫০-২০০ জন পটচিত্র অঙ্কন করতেন। করোনা্র গ্রাসে থমকে দিয়েছে সবকিছুই। এরই মাঝে অন্যরকম ভাবে আবারও বাঁচতে চাইছেন এখানকার পটীদাররা। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে একটু গত্তি আনার চেষ্টায় নিজেদের বাপ ঠাকুর্দার পেশাটাকে।

এখন এঁরা অনলাইনে অর্ডার নিয়ে পটচিত্র আঁকা নানা সামগ্রী বেচছেন বিভিন্ন যায়গায়। আবেদ চিত্রকর জানান, ফোন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার পাচ্ছি। সেই মোতাবেক চাহিদা মতো জিনিস পাঠাছে। প্রথম দিকে কাপড়ের মাস্কে পটচিত্র অঙ্কন করে শুরু করেছিলেন বিক্রি। এখন অন্যান্য জিনিসপত্রের গায়ে অঙ্কন করেছেন নানা ছবি। সেগুলিই অর্ডার পাচ্ছেন মোটামুটি। আপাতত অ্যালুমিনিয়ামের বড় কেটলির দাম ৫০০ টাকা। ছোট কেটলির দাম ৩০০ টাকা। কলসির দাম ৮০০ টাকা। খুব বড় কেটলি ৬৫০ – ৭০০ টাকায় বেচছেন। প্রতিটির গায়ে নানা কিসিমের পটচিত্র আঁকা হয়েছে। লোকজন এসব কিনে স্মারক করে রাখছে বাড়িতে।

এছাড়া মেয়েদের জন্য পটচিত্র আঁকা কুর্তি মিলছে ৫০০-৬০০ টাকায়। ওড়নার দাম ৪৫০ – ৫০০ টাকা। ছেলেদের টি শার্ট মিলছে ১৫০ – ৩৫০ টাকার মধ্যে। পাঞ্জাবির দাম ৭০০ – ৭৫০ টাকা। এক একটা ফুলদানি দিচ্ছেন ৮০০ টাকায়। এছাড়া মাত্র ৫০ টাকায় চিত্র বিচিত্র হাতপাখা বেচেছেন অর্ডার অনুযায়ী। স্থানীয় শ্যামসুন্দরপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুনাংশু প্রধান বলেন, এভাবেই এঁরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এই কঠিন পরিস্থিতিতে। ভীষন লড়াইয়ের মধ্যে এঁরা।

আরও পড়ুন: এখন কাগজ ছিঁড়ছে, ২০২১-এ তৃণমূল নিজের মাথার চুল ছিঁড়বে: ভারতী ঘোষ

আবেদ চিত্রকরের স্ত্রী সায়রা চিত্রকর বলেন, হাতে কাজ নেই। রুজিহীন হয়ে পড়ছি। খাবো কি? তবুও কিছু অর্ডার আসছে এখন। তাই একটু যেন স্বস্তি পাচ্ছি। তাঁর মতোই গেরস্থালির জিনিসপত্রে ফের পটচিত্র অঙ্কনে লেগে পড়েছেন ঝর্ণা চিত্রকর, আলেকজান পটীদার, রিজিয়া চিত্রকর, আয়েষা পটীদার, বাবলু পটীদাররা। লকডাউনের গেরো কাটিয়ে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা। হলদিয়ার চৈতন্যপুরের নেজবুন নেসা ফেসবুক দেখেই অর্ডার দিয়েছেন ৮০০ টাকা দামের ফুলদানি। বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে তা। তেমনি হায়দরাবাদের ঈশিকা ব্যানার্জিকে পাঠানো হয়েছে বড় কেটলি। হরিয়ানার ইন্দ্রানী ব্যানার্জী অর্ডার দিয়ে নিয়েছেন বড় কলসি। এভাবেই চণ্ডীপুরের পটুয়াপাড়ার পটশিল্পীরা লড়াই শুরু করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াকে সঙ্গী করেই।

Related Articles

Back to top button
Close