fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

BSF এর বাধা, মালদায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সমস্যায় মৎসজীবিরা

মিল্টন পাল,মালদা:  করোনার জেরে অর্থনৈতিক মন্দা। আর এরই মধ্যে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীতে মাছ ধরা নিয়ে বিএসএফের বাধা। আর তাতেই সমস্যায় পড়েছেন কয়েকশো মৎস্য জীবীরা। ঘটনাটি মালদার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার।
মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী। ওই এলাকায় রয়েছে মহানন্দা এবং টাঙ্গন নদীর সংযোগস্থল। দুটি নদী শাখা বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নদী পথ এলাকায় বিএসএফের টহলদারি রয়েছে। সেখানকার নদী পথে কাঁটাতারের সীমানা নেই। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে কমপক্ষে তিন হাজার মৎস্যজীবী মাছ ধরে জীবন-জীবিকা পালন করেন। লকডাউনের মধ্যে তাদের কাজে এখন বাঁধার সৃষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানেরা বলে মৎস্যজীবীদের অভিযোগ।

মুচিয়া এলাকার মৎস্যজীবী সুমিত হালদার জানান করোনা মোকাবিলায় লকডাউন চলছে। তাতে কিন্তু নদীর দূষণ অনেকটাই কমে গিয়েছে। যে নদীয়ালি মাছ একসময় পাওয়া যেত না , এখন সেগুলি জাল ফেললেই উঠছে। মাছের ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে। এলাকার নদীগুলিতে আগে সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা মাছ ধরতাম । কিন্তু এখন বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বলছে সকাল ৭টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত মাছ ধরতে দেওয়া যাবে। কখনো কখনো আবার মাছ ধরার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিএসএফের এই টানাপোড়েনে জেরে আমরা এখন চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছি ।

মুচিয়া এলাকার অনেক মৎস্যজীবীদের জানান, বিগত এক দশকের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ মাছ আমরা জালে পাই নি‌। যা গত কয়েকদিনের মধ্যে জালে উঠে আসছে।এতে আমাদের সমস্যা অনেকটাই মিটে যাচ্ছিল। এই অল্প সময়ে মাছ ধরা মৎস্যজীবীদের পক্ষে সম্ভব নয়, একথা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু উনারা কোন কথা শুনছেন না‌। তাই বাধ্য হয়েই এখন জাল নিয়ে নৌকাতেই বসে সময় কাটছে । আমরা চাই পঞ্চায়েত এবং প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে আসলে উপকৃত হব।
মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অর্জুন হালদার বলেন,মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার একটা অধিকার আছে। রাজ্য সরকার কৃষি এবং ও মৎস্যজীবীদের জন্য লকডাউনে ছাড় দিয়েছে। তারপরেও কেন বিএসএফের পক্ষ থেকে এরকম সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না।গোটা বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমি কথা বলবো।
মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান শুভলক্ষ্মী গায়েন বলেন, রাজ্য সরকার কৃষি ক্ষেত্রে এবং মৎস্যজীবীদের জন্য ছাড় দিয়েছে। তারপরও যদি মাছ ধরার ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের হেনস্তা করা হয়, বাধা দেওয়া হয়, তাহলে এটা মোটেই সঠিক কাজ নয়। আমি এই সমস্যা নিয়ে বিএসএফ কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
যদিও গোটা বিষয় নিয়ে বি এস এফ কতৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

Related Articles

Back to top button
Close