fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাদেশহেডলাইন

অবসরের পর পেনশন সিপিএম সদস্যদের! স্বাগত জানাচ্ছে রাজনৈতিক মহল

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের মধ্যে একমাত্র কেরলে সরকারে রয়েছে সিপিএম। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হয়ে গিয়েছে তারা। একই হাল হয়েছিল দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনেও। এই পরিস্থিতিতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সিপিএম। অবসরের পর সদস্যদের আর্থিক সাহায্য বা পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে। এই মর্মে রাজ্যগুলিকেও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। ইতিমধ্যেই কেরল এই পরামর্শ মেনে পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। তবে বঙ্গ সিপিএম এ ব্যাপারে স্পষ্ট মতামত এখনও জানায়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলে খবর। যদিও রাজনৈতিক মহল সিপিএমের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাচ্ছে।

সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন,” এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। যতক্ষণ না পার্টির অভ্যন্তরে এ ব্যাপারে কিছু শুনছি, ততক্ষণ কিছু বলা যাবে না।” যদিও সিপিএম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। তিনি উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে বলেন,” এটা যদি শেষ পর্যন্ত হয় তাহলে সেটিকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে মানতে হবে। অত্যন্ত সদর্থক পদক্ষেপ। পার্টির বহু প্রবীণ কর্মী চিকিৎসা করাতে পারেন না অর্থের অভাবে। এতদিন ধরে তাঁরা দলের হয়ে কাজ করেছেন। তাই তাঁদের পাশে থাকাটা দলের কর্তব্য। এটা অবশ্যই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি”। রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বিষয়টি অন্য দলের বলে কোনও মন্তব্য করতে না চাননি। তবে কংগ্রেসের আইনজীবী নেতা অরুণাভ ঘোষ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,”এটা অবশ্যই করা উচিত। যে সমস্ত প্রবীণ সিপিএম নেতা-নেত্রী এতদিন দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের দেখা উচিত দলের। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের যেন এর আওতায় রাখা না হয়। সিপিএমে অসংখ্য নেতা-নেত্রী আছেন যারা সততার সঙ্গে কাজ করে এসেছেন। বৃদ্ধ বয়সে দেখভালের লোক পাওয়া দুষ্কর। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাই সিপিএমের এই মনোভাবকে স্বাগত জানাচ্ছি।” একই কথা শোনা গেল রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মুখেও। তিনি বলেন,” সিপিএমের মধ্যে বরাবরই একটা ফেলো ফিলিং আছে। এই ভূমিকায় সিপিএমকে সব সময় দেখা যায়। তাই একথা বলা যায় না যে দেশজুড়ে সিপিএমের ফল খারাপ হচ্ছে বলে তারা এমনটা ভাবছে। আরও একটা বিষয় স্পষ্ট যে তাদের দলে প্রবীণের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করি”।

প্রসঙ্গত বলা যায় গত ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, দলের সর্বক্ষণের কর্মীদের জন্য অবসরকালীন ভাতা বা পেনশন চালু করা নিয়ে সিপিএম নেতৃত্ব আলোচনা চালিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল পার্টিতে মহিলা কর্মীদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো। ওই রিপোর্টে সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য প্রকাশ কারাতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সিপিএমে প্রায় দশ হাজার কর্মী রয়েছেন যারা বয়সের ভারে, অসুখ-বিসুখের কারণে পার্টির কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের জন্য অবসর ভাতার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা নিয়ে দলে আলোচনা চলছে।‌ সেই সময় ওই সংবাদমাধ্যমে এমনটাই দাবি করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য সিপিএমের সর্বক্ষণের কর্মী অর্থাৎ হোলটাইমাররা নিয়মিত দলের তরফে ভাতা পান। এবার অবসরের পর পেনশন দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করছে সিপিএম। জানা গিয়েছে কেরল সিপিএমের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেসব সদস্য নিয়ম মেনে পঁচাত্তর বছরের সীমা মেনে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন, তাঁদের পেনশন দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তাঁদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দলের তরফে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রাক্তন বিধায়ক বা সাংসদ যারা পেনশন পান, তাঁদের এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। আর পেনশনের অঙ্কটা কত হবে সেটা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে দলের আয় কতটা হচ্ছে তার উপর। উল্লেখ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে সিপিএমের। তাই পেনশনের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে কার্যকর হলে সিপিএমের প্রতি যুব সমাজের আকর্ষণ বাড়বে বলেই মনে করছে দল।

Related Articles

Back to top button
Close