fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না তৈরি করতে দিয়ে মানুষ নিজের বিপদ নিজেই ডাকছে: ফিরহাদ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়,কলকাতা: কোয়ারেন্টাইনে সেন্টার তৈরি করা নিয়ে বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কলকাতা পুরসভাকে। গতকালও চেতলায় নিজের ওয়ার্ডে গিয়ে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকে।

এই প্রসঙ্গে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না করতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন মানুষরা।’

কলকাতার মত ঘিঞ্জি প্রবন এলাকায় প্রত্যেকের পক্ষে আলাদা করে ঘরে থাকা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার কমিউনিটি হল গুলিকে কয়ারেন্টিন সেন্টার তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হোয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়েছেন, ফাঁকা জায়গায় কোনও কমিউনিটি হল থাকলে সেখানে কোয়ারেন্টিন সেন্টার গড়ে তুলতে। কিন্তু সেই পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে পুর প্রশাসন কে।

এই প্রসঙ্গে এদিন পুরপ্রশাসক বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না করতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন মানুষেরা। যেখানে করতে দিচ্ছে না আমরা করব না। কিন্তু যখন সেখানেই করোনা আক্রান্ত হবে তখন আলাদা করা যাবে না সবার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করতে দিলাম না প্রটেস্ট করলাম হবে না, কিন্তু যখন নিজের বাড়িতেই সেই বিপদ আসবে তখন তাদেরই সবথেকে বেশি ভুগতে হবে।’

করোনাকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। এই সুর টেনে ফিরহাদ বলেন, ‘রাজ্যে যখন করোনা বাড়ে কলকাতাতেও বাড়ে ন্যাচারালি কলকাতাতেও বাডছে। আমরা লড়াই করব মানুষের সহযোগিতা চাই। করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে এ ছাড়া আর উপায় নেই। সাবধানে থাকতে হবে। অনির্দিষ্টকাল তো আর বসে থাকা যাবে না। এর জন্য অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে না।’

বাইরে থেকে পরিযায়ী শ্রমিক আসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও এদিন মন্তব্য করেন তিনি জানান, ‘জেলায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকরা আসার পর থেকে। তাদেরকে সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ঘরে ফেরাতে হবে।’

শহরের সবুজ রক্ষা করতে আমফানে উপড়ে পড়া গাছগুলোকে পুনরায় রোপণ করার সিদ্ধান্ত নিল কেএমডিএ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই কাজ শুরু করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ পুনরায় রোপণ করে অতীতে সাফল্য পেয়েছিল কেএমডিএ।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারও ইকো পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে উপড়ানো গাছের একটা বড় অংশই পুনরায় ওই উদ্যানেই দ্রুত বসিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত গাছ পাঁচ বছরের কম বয়সি এবং খুব দীর্ঘ নয় তাদের বর্ষার আগেই সেগুলো ‘রিপ্ল্যান্টেশন’করা হবে। উদ্ভিদবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিল কলকাতা পুরসভা।

পুরভবনে পুরসভারই নিজস্ব ১৬ জন উদ্ভিদবিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য দেবাশিস কুমার।  কেএমডিএ’র অফিসাররা উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গত তিন দিনে রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবর পরিদর্শন করেছেন। বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়েছে কেএমডিএ’র চেয়ারম্যান তথা পুরমন্ত্রীর কাছে। সবুজ সংকেত মিলতেই রিপ্ল্যান্টেশন কর্মসূচি শুরু করেছেন কেএমডিএ আধিকারিকরা।

ইতিমধ্যে আলোচনা সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন কেএমডিএ ও হিডকো কর্তারা। পরীক্ষামূলক ভাবে এদিন রবীন্দ্র সরোবর লাগোয়া যতীন দাস পার্কে একটি হেলে পড়া বড় গাছ টেলিস্কোপিক হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে তুলে অন্যত্র পুনঃস্থাপনের কাজ হয়েছে।

পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার বড় রাস্তায় পরিসর ও মাটির গুণমানের কারণে রিপ্ল্যান্টেশন সামান্য অসুবিধা হয়। কিন্তু ইকো পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে যত গাছ উপড়ে গিয়েছে সেগুলির অধিকাংশই ফের বসিয়ে দেওয়া হবে। উপড়ানো দামি গাছগুলি আগে ‘রিপ্ল্যান্টেশন’ হবে।”

পুরমন্ত্রী জানান, “এবার ইকো পার্কে রিপ্ল্যান্টেশন করায় জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন গাছও লাগানো হবে।”এব্যাপারে উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পড়ে যাওয়া গাছ নতুন করে রোপণ করা সম্ভব, তবে পুরোপুরি সাফল্য আসে না।

বিশেষ করে যে সব গাছের গুঁড়ি শক্ত, সেগুলি নতুন করে বসালেও সচরাচর বাঁচে না।

তবে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে রবীন্দ্র সরোবরে ৪১টি ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ তিনটি পর্যায়ে নতুন করে লাগানো হয়েছিল। সেগুলির সব ক’টিই বেঁচে আছে। তার মধ্যে ফলের গাছও ছিল।

Related Articles

Back to top button
Close