fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ক্ষতিপূরণ মেলেনি, নিজেদের উদ্যোগেই পানের বরজ তৈরি করছে পূর্ব মেদিনীপুরের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের মানুষ

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: গত ২০ মে এখনও অনেকেই ভুলতে পারছে না আমফানের তান্ডব। সেই স্মৃতি এখনও কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের। সেই তাণ্ডবে কারও গেছে ঘরবাড়ি, কারও গেছে ফুলের বাগান, কারও গেছে পান বরজ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সরকার পক্ষ ক্ষতিপূরণ নিয়ে দলমত নির্বিশেষে যাতে সবাই ক্ষতিপূরণ পায় সেই দিকটির উপর জোর দিয়েছিল। ক্ষতিপূরণ পাওয়াকে নিয়েই সেই সময় থেকে শুরু হয়েছে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ। বঞ্চিত মানুষরা দাবি জানিয়েছিল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে ক্ষতিপূরণ পায়। এই দাবি রাখার পরেও আশ্বাসের বাণী ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছু জুটেনি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পানের যে উৎপাদন হয় তার অনেকটাই নির্ভর করে এই ব্লকের উৎপাদনের উপর। আমফানের ঝড়ে পান বরজের যে ক্ষতি হয়েছে তা ওই এলাকার অপরিসীম ক্ষতি। সংখ্যাটা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি পান বরজ নষ্ট করে দিয়েছে বিধ্বংসী ঝড়। পান বরজ ক্ষতি হওয়ার জন্য চাষিরা ক্ষতিপূরণ কিছুটা পেলেও অধিকাংশ চাষি ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত। বঞ্চিত মানুষদের স্বার্থেই শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ভারতীয় জনতা পার্টি লাগাতার আন্দোলন জারি রয়েছে।

খারুই ২ অঞ্চলে বিজেপির পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে, তার ফলও অধরা। অভিযোগে প্রকাশ এমনও অনেক চাষি আছে যাদের পান বরজ ক্ষতি হয়নি তারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। তবে এই অভিযোগ শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে খণ্ডন করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই ঝড়ের তাণ্ডবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই সরকারি সাহায্য পেয়েছে।

আরও পড়ুন: পিকের টিম টাকার থলি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কাজ হচ্ছে না কটাক্ষ দিলীপের

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে পান বরজ ক্ষতিগ্রস্ত চাষি বিশ্বনাথ অধিকারী, স্বপন অধিকারী, দিলীপ মন্ডল সহ অনেকের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা বলেন, তারা এখনও সাহায্য পাননি বরজ ক্ষতির জন্য। মহাজনের কাছ থেকে ধার করে পুনরায় বরজ তৈরি করতে হচ্ছে। এই বরজের উপর নির্ভর করেই সংসার চালাতে হয়। বাধ্য হয়েই ধার দেনা করে বরজ তৈরি করছি। আমফান, লকডাউনের যাঁতাকলে পড়ে আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই সঙ্গীন হয়ে পড়েছে। সংসার চালানোয় এখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। অভিমানী চাষিরা বলছে আমাদের ক্ষতি হল ক্ষতিপূরণ পেলাম না, খোঁজ নিয়ে দেখুন ক্ষতি হয়নি এমন ব্যক্তি আছে এই পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে তারা টাকা পেয়েছে। এই পঞ্চায়েত সমিতিতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার আমরা।

জেলা উদ্যানপালন দফতরের হিসেব জেলায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়। পান চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৭০ হাজার চাষি জড়িত। আমফানে ৩২০০ হেক্টর জমির পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ পান চাষে ক্ষতি হয়েছে।
সাধারণ চাষিদের কথা ভেবেই জেলা বিজেপির অন্যতম নেতা বামদেব গুছাইত শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত অফিসে দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে। শাসক দলের রক্তচক্ষু দেখা থেকেও বঞ্চিত হন নি। তবুও চাষি থেকে সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই আন্দোলনের পথ থেকে পিছিয়ে আসার কোনও প্রশ্ন নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে শামিল হচ্ছে বলে জানান।
আন্দোলন চলবে কিন্তু প্রশ্ন সেই থেকেই যাচ্ছে যারা বঞ্চিত তারা কবে সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পাবে এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।

Related Articles

Back to top button
Close