fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

টাওয়ার বসানোর নামে ফোন করে সাধারণ মানুষের থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কল সেন্টারে বসেই চাকরি প্রলোভন ও মোবাইল টাওয়ার বসানোর নাম করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফোন! আর সেই ফাঁদে ফেলেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠলো একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে বড়সড় সেই প্রতারণা চক্রের হদিশ পেলো পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকে শনিবার কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হয় ও তাদের দশদিনের পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ জানায়, ধৃতরা হল দীপঙ্কর ওরফে দীপ পাল ও হেমন্ত খাঁড়া। প্রথম জনের বাড়ি কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায়। দ্বিতীয়জনের বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগণার দত্তপুকুর থানার বাবপুর এলাকায়।

স্থানীয় ও পুলিশসূত্রে জানা যায়,ওই চক্রটি মন্তেশ্বরের এক যুবককে গত বছরে প্রলোভন দেখায় ও তার কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপরেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। ওই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত গোপাল সমাদ্দার নামে এক ব্যক্তিকে দুর্গাপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। কাঁকসা থানার উত্তরপাড়া এলাকার ওই বাসিন্দাকে জেরা করে মন্তেশ্বর পুলিশ দীপঙ্কর ওরফে দীপ পাল ও হেমন্ত খাঁড়া নামে দুই ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করে। আর তার সঙ্গে বারাসাত মধ্যমগ্রামে একটি কল সেন্টারের হদিশ পায়।

বীমা সংক্রান্ত বিষয়কে সামনে রেখে সকলের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে বসেই ওই ব্যক্তিরা নামী মোবাইল কোম্পানির প্রতিনিধি বলে ফোনে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনকে ফোন করত। পরিত্যক্ত জমিতে মোবাইলের টাওয়ার বসিয়ে জমির মালিককে এককালীন কয়েক লক্ষ টাকা ও পরিবারের একজনের চাকরি দেওয়ার মত প্রলোভন দেখাতো বলে পুলিশসূত্রে জানা যায়। মোবাইলের টাওয়ার বসানোর জন্য জমি আছে কিনা তা জানতে চেয়ে জমির যাবতীয় তথ্য ও কাগজ মেল করতে বলা হত। ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দেওয়া হত জমির মালিকের বিশ্বাস অর্জন করবার জন্য। এরপরেই নো-অবজেকশন, কোর্ট এগ্রিমেন্ট, জিএসটির নাম করে দফায় দফায় নিজেদের দেওয়া একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার জন্যও বলত ওই চক্রের দুষ্কৃতীরা। আর এরপরেই ধীরে ধীরে সেই লক্ষ লক্ষ টাকা তারা আত্মসাৎ করত বলে অভিযোগ।

জেরায় পুলিশ জানতে পারে এদের সঙ্গে আরও কুড়ি-পঁচিশ জন রয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) ধ্রুব দাস বলেন, ‘মোবাইল টাওয়ার বসানোর নাম করে প্রতারণা চক্রটির দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পিছনে একটি বড়সড় চক্র রয়েছে। তদন্ত চলছে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

Related Articles

Back to top button
Close