fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ডিভোর্সের মামলা নিয়ে বচসা, স্ত্রী- শাশুড়িকে গুলি করে খুন করে আত্মঘাতী যুবক, খোঁজ মিলল সন্তানের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিভোর্সের মামলা নিয়ে বচসার জেরে স্ত্রী- শাশুড়িকে গুলি করে খুন করে মুহূর্তের মধ্যে নিজের মাথাতেও গুলি করে আত্মঘাতী হল এক যুবক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাগান থানা এলাকার কাঁকুরগাছির একটি আবাসনে। কেনই বা মামলা চলাকালীন স্ত্রীকে খুন? সেই রহস্য এখনও অজানা পুলিশের। সূত্রের খবর, সোমবার গভীর রাতেই মৃত অমিতের সন্তানের সন্ধানের হদিশ মিলেছে।ফুলবাগান কাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রথমেই মৃত অমিত-শিল্পীর সন্তানের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। একাধিক জায়গায় হদিশ না মেলায় শেষে উত্তরপাড়ায় অমিতের দাদার বাড়িতে হানান দেয় তদন্তকারীরা। সেখানেই খোঁজ মিলল অমিত-শিল্পীর সন্তানের ।

জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা নাগাদ পরপর তিন বার গুলির আওয়াজ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। এরপরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। শ্বশুরের দিকে গুলি চালালেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বেঁচে যান তিনি। সোমবার ভর সন্ধ্যায় এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। তদন্তে নেমেছে ফুলবাগান থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ফুলবাগানের রামকৃষ্ণ সমাধি রোডের একটি আবাসনে থাকতেন বছর সত্তরের সুভাষ ধান্ধানিয়া এবং তাঁর স্ত্রী ললিতা। তাঁদের মেয়ে শিল্পীর সঙ্গে অমিত আগরওয়াল নামে ওই যুবকের তাঁরা বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে-জামাইয়ের মধ্যে তেমন বনিবনা না হওয়ায় বিচ্ছেদের মামলা শুরু হয়। ২ বছর ধরে সেই মামলা চলছে।

আর পড়ুন: দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলও রাহুল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন : জেপি নাড্ডা

এদিন বিকেল সাড়ে ৬ টা নাগাদ আচমকাই ধান্ধানিয়াদের ফ্ল্যাটে হাজির হয় অমিত। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ডিভোর্সের মামলার কথা বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে সে। শ্বশুর সুভাষ ধান্ধানিয়ার দাবি, জামাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। উলটে জামার পিছন থেকে আচমকাই বন্দুক বের করে ললিতাদেবীকে খুব কাছে গুলি করে অমিত। তারপর তার দিকে গুলি চালায়। অমিতের শ্বশুর সুভাষ ধান্ধানিয়া ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে  পাশের ফ্ল্যাটে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময়ই নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে অমিত আত্মঘাতী হয়। এরপর প্রতিবেশীরাই খবর পাঠান ফুলবাগান থানায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, সুভাষ ধান্ধানিয়ার ফ্ল্যাটে একদিকে পড়ে রয়েছে ললিতাদেবী এবং অন্যদিকে অমিতের মৃতদেহ। পাশে পড়ে রয়েছে তার আগ্নেয়াস্ত্র। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অমিতের পকেট থেকে মেলা সুইসাউড নোটের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে আসে স্ত্রীকে খুনের তথ্য। এখানেই প্রশ্ন কেন স্ত্রীকে খুন? ছেলেকে রেখে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে কেন আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করেছিল অমিত? সুইসাইড নোট ছিল পকেটে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েই সেখানে গিয়েছিল অমিত।

 

Related Articles

Back to top button
Close