fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

মানুষের দুর্দশার কথা না ভেবে প্রধানমন্ত্রী নিজের প্রচারে ব্যস্ত: সীতারাম ইয়েচুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদির নীতির জন্য মানুষের এই দুর্দশা। তাঁদের জন্য কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে মোদি এখনও তাঁর প্রচারে ব্যস্ত। রবিবার এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ্য করে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।
অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যার, দেশের বেকারির সংকট, যুক্তরাষ্ট্রীয় সহায়তার, পি এম কেয়ার ফান্ড প্রসঙ্গ, সরকারের অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় খরচ, পিপিই-র অভাব, জনস্বাস্থ্য, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, অভিবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সহ মোট বারোটি বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে একই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠির অংশ তুলে ধরে ইয়েচুরি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকারের প্রধানরা প্রতিদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফেরাতে এটাই একমাত্র পথ। ভারতেও একাধিক রাজ্য সরকার এটা করছে। কেরালার বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে এই মহামারীর মোকাবিলায় রাজ্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তা মানুষকে জানিয়ে মানুষের আস্থা ফেরাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায় এই গণতান্ত্রিক বিষয়টি একেবারেই অনুপস্থিত।

এর পাশাপাশি, লকডাউনে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে ইয়েচুরি বলেন, ‘লকডাউনের শুরু থেকে অভিবাসী শ্রমিকরা তাঁদের রোজগার এবং বাসস্থান হারিয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরতে চেয়ে ভিড় করেছে। আমরা প্রথম থেকে এঁদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। প্রচুর খাদ্যশস্য কেন্দ্রীয় গোডাউনে নষ্ট হচ্ছে। এই খাস্যশস্য বিভিন্ন রাজ্যে বিতরণ করার জন্য পাঠানোর দাবি জানিয়েছি। আপনি বা আপনার সরকার এখনও পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনও আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেননি।’

করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে কর্মহীন হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বেড়েছে বেকারত্ব। সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যানে করোনা চলতি ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ কাজ হারাবেন বলে দাবি করা হয়েছে। এদিন সেই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে দায়ী করে ইয়েচুরি বলেন, ‘ করোনা মহামারীর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দেশের ১২.২ কোটি মানুষ কাজ এবং রোজগার হারিয়েছেন। লকডাউনের ৬ সপ্তাহে দেশে বেকারির হার ৭.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩.৬ শতাংশ। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এইসব মানুষদের জন্য আগামী তিন মাস ৭,৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক কেন্দ্রীয় সরকার।

সরকার যেখানে গত পাঁচ বছরে দেশের ধনী কর্পোরেটদের জন্য ৭.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মকুব করতে পড়েছে তখন সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দুর্দশা দূর করতে সরকারের টাকার অভাব হওয়া উচিৎ নয়।’

Related Articles

Back to top button
Close