fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর ৫৮টি দেশে বিদেশ সফর, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লাভবান হয়েছে ভারত’: মুরলীধরণ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বের ৫৮ দেশ সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় জানাল কেন্দ্র। বিরোধীদের অভিযোগ নয়। সরকারি রিপোর্টেই এই তথ্য পেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর বাবদ খরচের বিশদ লিখিত ভাবে জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ। মরলী জানান, মোদীর বিদেশ সফরে এ পর্যন্ত খরচের পরিমাণ ৫১৭.৮২ কোটি টাকা।  মরলী জানান, মোদির বিদেশ সফরে এ পর্যন্ত খরচের পরিমাণ ৫১৭.৮২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আমেরিকা, রাশিয়া, চিন গেছেন পাঁচ বার। আর সিঙ্গাপুর, জার্মানি, শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশে একাধিকবার ভ্রমণ ররেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সফরগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি বহু দেশীয় ভ্রমণ ছিল আর বেশ কয়েকবার দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল। এদিকে, ২০১৮ সালে সরকার জানিয়েছিল ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের জন্য খরচ হয়েছে ২০০০ কোটি টাকা। ওই খরচের মধ্যে রয়েছে বিমান ভাড়া করার খরচ, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ও হোটেলের খরচ।

২০১৯ সালের ১৩ ও ১৪ নভেম্বর দু-দিনের সফরে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলই তাঁর শেষ বিদেশ সফর। বিশ্বজুড়ে করোনা সংকটের কারণে তিনি বিগত কয়েক মাসে আর বিদেশ সফর করেননি। ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা)-এর সম্মেলনে যোগ দিতেই মোদি ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। গত মার্চে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশসফর নিয়ে একটি পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন মুরলীধরণ। তাতে উল্লেখ ছিল, মোদির বিদেশ সফরে ২০১৫-১৬ সালে ১২১ কোটি ৮৫ লক্ষ, ২০১৬-১৭ সালে ৭৮ কোটি ৫২ লক্ষ, ২০১৭-১৮ সালে ৯৯ কোটি ৯০ লক্ষ, ২০১৮-১৯ সালে ১০০ কোটি ২ লক্ষ এবং ২০১৯-২০ সালে ৪৬ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

মুরলীধরণ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক স্তরের অনেক চুক্তি হয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লাভবান হয়েছে ভারত। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনেক চুক্তি হয়েছে। টেকনোলজি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অনেক চুক্তিও হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বের সঙ্গে বোঝাপড়ার পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: দেশে একদিনে করোনার কবলে ৮৩ হাজার,করোনার বলি ৯০ হাজার

তিনি আরও বলেছেন ওই সফরগুলি বাণিজ্য, বিনিয়োগের যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি আর প্রতিরক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণখাতে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ভারতকে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে ভারতের বোঝাপড়া এখন যথেষ্ট ভালো। পরিবর্তে ভারতের জাতীয় উন্নয়নের অ্যাজেন্ডাতে তুলে ধরা গেছে। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করেছে, বলেও তিনি দাবি করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের এই খরচ নিয়ে বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। উনিশের লোকসভার প্রচারে এই খরচ বিরোধীদের আক্রমণের একটা প্রধান হাতিয়ার ছিল। অথচ এক বছর পরে কেন্দ্রের তরফে খরচের যে খতিয়ান দেওয়া হল তাতে খরচ চারভাগের এক ভাগ হয়ে গিয়েছে। এটা কী ভাবে সম্ভব সেটা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, চাপে পড়ে খরচের খতিয়ান কমিয়েছে কেন্দ্র।

Related Articles

Back to top button
Close