fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ডাইনি অপবাদে মহিলাকে গ্রাম ছাড়া করা নিয়ে পুলিশ ও গ্রামবাসীর সংঘাত, গ্রেফতার ৩

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান: ডাইনি অপবাদে এক মহিলাকে গ্রামছাড়া করার নিদান দেন গ্রামেই এক  আদিবাসী বধু। সেই নিদান মেনে রবিবার দুপুর থেকে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের দিগনগর কেঁওতলা আদিবাসী পাড়ায় ওই মহিলাকে গ্রামছাড়া করার তৎপরতা দেখা যায়। তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আউসগ্রাম থানার পুলিশ আদিবাসী পাড়ায় পৌঁছে ওই মহিলাকে উদ্ধার করতে গেলে গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশের উপর চড়াও হয়।

পুলিশকে লক্ষ করে তীর ছোঁড়া শুরু করলে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। এমনকি রাতে র‍্যাফ সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ডাইনি অপবাদ দেওয়া মহিলাকে উদ্ধার করে।পুলিশের উপর হামলা চালানোর ঘটনার জড়িত তিন জনকে পুলিশ এলাকা থেকে পাকড়াও করেছে । উত্তেজনা থাকায় এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে পুলিশ বাহিনী ।কুস্কারের বিরুদ্ধে গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার  কেঁওতলা আদিবাসী পাড়ায় ছিল মনসা পুজো। ওদিন বুধিন বাস্কি নামে এলাকার এক বধূ খড়িনদীতে স্নান করে আসার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন। তিনি খাওয়াদাওয়াও একপ্রকার ছেড়ে দেন। পুজোর দিন থেকেই বুধিন বাস্কে একটানা পাড়ার ঠাকুর তলায় হত্যে দিয়ে পড়ে থাকেন। গ্রামের অনেক লোকজন তখন মনে করতে শুরু করেন  বুধিনকে দেবতা ভর করেছে।

এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও রবিবার বেলায়
হঠাৎ করেই বুধিন বাস্কে নিদান দিয়ে বসে, তাঁদের পাড়ার এক মহিলা ডাইনি। ওই ডাইনির জন্যই পাড়ার অনেকে অসুস্থ হচ্ছে। পাড়ায় সবার বিপদ ঘনিয়ে আসছে। ওই ডাইনিকে গ্রামছাড়া না করলে গ্রামের মঙ্গল হবে না। এই নিদান শোনার পরথেকেই  ওই মহিলাকে গ্রাম ছাড়া করতে আসরে নেমে পড়ে গ্রামের অন্য একাধীক মানুষ। যা নিয়ে রাত পর্যন্ত কেঁওতলা আদিবাসী পাড়ায় অশান্তি অব্যাহত থাকে।

যে মহিলাকে  ডাইনি  আখ্যা দেওয়া হয় তার স্বামী জানান, তিনি সকালে বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে গ্রামে ফিরে তিনি দেখেন তার স্ত্রীকে সবাই ডাইনি বলছে। স্ত্রীকে গ্রাম ছাড়া করার জন্য সবাই একাট্টা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি গ্রামের লোকজনদের কথা মেনে নিতে বাধ্য হন। তারই মধ্যে বুধিন বাস্কের নিদান মেনে গ্রামের লোকজন আউসগ্রামের ভেদিয়ায় তাঁর স্ত্রীর বাবার বাড়িতে ফোন করে। গ্রামবাসীরা তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাবার কথা তাদের জানিয়ে দেয়। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তাঁর স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে নিতে না আসায় গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। সেই খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে পৌছালে সংঘাত চরমে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে খবর ডাইনি অপবাদ দেওয়া মহিলাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ গ্রামে পৌছানো মাত্রই  গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে। মহিলাকে উদ্ধারেও তারা পুলিশকে বাধাদেয়। কেঁওতলার কাছে গুসকরা মানকর রোড কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার মুখে গ্রামবাসীরা মহিলাকে পুলিশের হাতে ছাড়তে রাজি হলেও হঁশিয়ারি দেয়, ডাইনি মহিলাকে তারা আর গ্রামে থাকতে দেবে না।

ডাইনি অপবাদ দেওয়া মহিলাকে উদ্ধারের পর বর্ধমান থেকে র‍্যাফ ও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ওই গ্রামে যায়। তখন আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দারা পুলিশকে লক্ষ্য করে তির ছুড়তে শুরু করে। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ ধরপাকড় অভাযানে নেমে তিন জনকে পকড়াও করেছে। পুলিশের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও  খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এইবিষয়ে আউসগ্রাম ১ ব্লকের বিডিও চিত্তজিৎ বসু জানিয়েছেন, ‘পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। ওই এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close