fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আইপিএল বেটিং চক্রের আরও ৭ পাণ্ডাকে গ্রেফতার করল পুলিশ

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হল আইপিএল বেটিং চক্রের আরও ৭ পাণ্ডা । শনিবার রাতে আইপিল খেলা চলাকালীন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির থানার পুলিশ মায়েরকোল পাড়ার একটি পরিত্যক্ত সিনেমা হলে হানাদিয়ে তাদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করে। একই রাতে আইপিল বেটিং চক্রে জড়িত অপর এক জনকে বর্ধমানের গোলাহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ । পুলিশ বেটিং চক্রে জড়িত বাকি সদস্যদেরও খোঁজ চালাচ্ছে ।

 

মেমারি থানার পুলিশ যে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে তারা হলেন পল্লব মজুমদার, বাসুদেব বিশ্বাস, সমরেশ বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ মাঝি, সুদীপ মজুমদার ও বিপ্লব চন্দ্র ধর। ধৃতরা মেমারি থানার ব্রাহ্মন পাড়া, ছিনুই, ভরবেনে পুকুর পাড় প্রভৃতি এলাকার বাসিন্দা । অন্যদিকে বর্ধমান থানার পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছে তার নাম সেখ কামালউদ্দিন । বর্ধমানের গোলাহাট এলাকায় তার বাড়ি ।  সাত ধৃতকেই রবিবার পেশ করা হয় বর্ধমান  আদালতে । চক্রের কিংপিনদের ধরতে তদন্তকারী অফিসার কামালউদ্দিনকে ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান । বিচাররক কামালউদ্দিনের  তিন দিনের পুলিশি হেপাজত ও বাকি ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন ।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার মেমারির মায়ের কোল পাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিনেমা হলে বসে কয়েকজন বেটিং চালাচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোনও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। বেটিং চক্রের মূল হোতা চন্দন শেখ ও রাজু সাউকে অবশ্য পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি । পুলিশ জানতে পেরেছে তারাই বর্ধমানে বসে বেটিং চক্রের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে ।মোটা টাকার বিনিময়ে চন্দন ও রাজু অ্যাপসের লগইন আইডি চক্রের বাকিদের হস্তান্তর করে । চক্রের লোকজন আইপিএল ছাড়াও রাজনীতি, অন্যান্য খেলা এবং গানের রিয়েলিটি শো নিয়েও বেটিং চালায়। কলকাতার কয়েকজনও বেটিংয় চক্রে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জেনেছে ।

 

বেটিংয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয় ।  কয়েকদিন আগে মেমারি থানার পুলিশ সুরঞ্জন বিশ্বাস, কালীচরণ সাউ ও পার্থসারথি বিশ্বাস নামে তিন জনকে গ্রেপ্তার করার পরেই বেটিং চক্রের পর্দা ফাঁস হয় । তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ জানতে পারে ৫টি অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং চক্রটি চালানো হচ্ছে । ওই ৩ জনকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ বেটিংয় চক্রে ৬ জনের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে।  অন্যদিকে বর্ধমান থানার পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় বিশেষ সূত্র মাধ্যমে গোলাহাট এলাকা নিবাসী কামালউদ্দিনের বাড়িতে বেটিং চক্রের আশর বসার ব্যাপারে জানতে পারে । পুলিশ সেখানে  হানা দিয়ে কামালউদ্দিনকে ধরে ফেলতে পারলেও বাকিরা পালায় । ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ ৬ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে । কামালউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে বেটিং চক্রে বর্ধমান শহরের মেহেদি বাগান ও নীলপুরের ২ জন জড়িত রয়েছে । তারা গা ঢাকা দিয়েছে । বর্ধমান থানার পুলিশ এখন হন্যে হয়ে তাদের খোঁজ চালাচ্ছে ।

Related Articles

Back to top button
Close