fbpx
হেডলাইন

বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানে রণক্ষেত্র শিলিগুড়ি…. চলল গুলি, ছোঁড়া হল জলকামান

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আমফান ও করোনা দুর্নীতি, বেকারত্বের হার, চা শ্রমিকদের দুরবস্থা-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেয় বিজেপির যুব মোর্চা। সেই অভিযান ঘিরেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গে। রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিলিগুড়ি। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই তিনবাত্তি মোড়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মিছিলে বাধা দিতেই বিজেপির কর্মীদের তরফে পাথর বৃষ্টি করা হয় পুলিশের দিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জল কামান ব্যবহার করছে পুলিশ। ১৪৪ ধারা জারি করে বিজেপির এই জমায়েতকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

সোমবার বেলা একটু বাড়তেই বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা জড়ো হন উত্তরকন্যা অভিযানে অংশ নিতে। শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি মোড় থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু। বাকি দুটি মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়। বেলা ২ টো নাগাদ শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড়ে আচমকা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন যুব মোর্চার কর্মীরা। পুলিশ-বিজেপি কর্মী ধস্তাধস্তিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়। তিনবাত্তি মোড়ের কাছে রাস্তায় বসে পড়েন যুব মোর্চার কর্মীরা। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পুলিশের তরফে ঘোষণা করা হয়, ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। জমায়েতকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি বিজেপির যুব মোর্চা।

এরপরই বিক্ষোভকারীদের হটাতে প্রথমে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। পালটা ইট বৃষ্টি করে বিজেপির কর্মীরা। জলকামান ব্যবহার করেও বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পুলিশ-বিজেপি সংঘর্ষে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। জখম হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও বিজেপি কর্মী, পুলিশ। এরপর ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ময়দানে নামে মহিলা মোর্চার কর্মীরা। খুলে দেন ব্যারিকেডের দড়ি। সেই সময় ফের জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ফাটানো হয় টিয়ার গ্যাসের সেল। জলের মুখে পিছু হটে বিজেপি কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে রণক্ষেত্র তিনবাত্তি মোড়ে পৌঁছয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মিছিল। যদিও তাঁদের প্রতিহত করতে প্রস্তুত ছিল পুলিশ। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে পুলিশ-বিজেপির এই লড়াই। ব্যারিকেডের সামনে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। এদিনের এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে রীতিমতো আতঙ্কে কাঁটা স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: সংবাদমাধ্যমকে আপত্তিকর মন্তব্যে, সাংসদ মহুয়া মিত্রের বিরুদ্ধে বিবৃতি জারি কলকাতা প্রেস ক্লাবের

এদিকে, সোমবার সকালে এনএইচপিসি-র বাংলো থেকে বেরোতেই দিলীপ-সায়ন্তনকে আটকানো হয় বলে অভিযোগ করে বিজেপি। সে সময় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে পুলিশের একচোট বচসাও হয় বলে দাবি করে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়ে দেন পুলিশের চেষ্টাতে দলের কর্মীদের এই অভিযান আটকাতে পারবে না কেউ। বিজেপির এই অভিযানকে কেন্দ্র করে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close