fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কুলটিতে মদের আসরে গাড়ি চালককে নৃশংসভাবে মাথা থেঁতলে ও পিটিয়ে খুন, তদন্তে পুলিশ

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: মদের আসরে পেশায় গাড়ি চালক এক যুবককে মাথা থেঁতলে ও পিটিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করা হল। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। বুধবার সকালে কুলটি থানার পুলিশ ২নং চিনাকুড়ি এলাকার একটি ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসন থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। মৃতের নাম জিতেন্দ্র পাসোয়ান(৪০)। এদিন দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে পুলিশ যুবকের দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়। মৃত যুবকের শ্বশুর কিশোর পাসোয়ান সহ বাড়ির লোকেরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, জিতেন্দ্রকে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে। পুলিশ ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২ নং ধারায় একটি খুনের মামলা করে, তদন্ত শুরু করেছে। এখানো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি।

পেশাগত, পারিবারিক না ব্যক্তিগত শত্রুতা ঠিক কোন কারণে ঐ যুবককে খুন করা হয়েছে, তা পুলিশ খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২ নং চিনাকুড়ি এলাকার ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসনে দেখভাল করার জন্য ইসিএলের তরফে নিরাপত্তা রক্ষী রাখা হয়েছিলো। জিতেন্দ্র পাসোয়ান নামে ঐ যুবক গত কয়েকদিন ধরে পারিবারিক অশান্তির কারনে নিজের বাড়ি ছেড়ে ঐ আবাসনে রাত্রি যাপন করছিলো। সে নিরাপত্তা রক্ষীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে রেখেছিলো। মঙ্গলবার রাতেও ঐ যুবক ঐ আবাসনে রাত্রি যাপন করতে আসে । বুধবার সকালে আবাসনের মধ্যে তার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় আবাসনের নিরাপত্তা রক্ষী । সে খবর দপয় স্থানীয় বাসিন্দাদের । তাদের কাছ খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসে কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। মৃতদেহের পাশে বেশ কিছু মদের বোতল উদ্ধার করে পুলিশ । তাতে পুলিশের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে মঙ্গলবার রাতে সেখানে মদের আসর বসেছিলো। যেখানে খুন হওয়া জিতেন্দ্র ছাড়াও আরো ৪/৫ জন ছিলো। সেই মদের আসরের গন্ডগোল থেকেই এই খুনের ঘটনা কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: একাধিক আমফান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিয়ে নজির গড়ল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা

অন্যদিকে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, বছর তিনেক আগে গব্বর নামে এক যুবক খুন হয়িছিলো এই ২ নং চিনাকুড়ি এলাকায়। সেই খুনের অন্যতম অভিযুক্ত শিখন্ডি পাসোয়ানের ভাই হলে খুন হওয়া এই জিতেন্দ্র পাসোয়ান । এই খুনের ঘটনার সাথে গব্বরের খুনের প্রতিশোধের ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে কিনা তাও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে । আবার পুলিশের তদন্ত থেকে বাদ যাচ্ছে না পারিবারিক অশান্তির বিষয়টিও। এছাড়াও পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকার এক পরিবারের সঙ্গেও জিতেন্দ্রর ঝগড়া হয়েছিলো।

এদিন আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) অনমিত্র দাস বলেন, যুবককে খুন করা হয়েছে। যে আবাসন থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়, সেখান থেকে বেশকিছু মদের বোতলও পাওয়া গেছে। যা থেকে পরিষ্কার, মঙ্গলবার রাতে সেখানে মদের আসর বসেছিলো। একটি মামলা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close