fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনা উপসর্গ থাকা ধৃতদের জন্য লালবাজার সহ থানাগুলিতে ‘আইসোলেশন লকআপ’-এর পরিকল্পনা পুলিশের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: এতদিন পর্যন্ত দাগী হিংস্র আসামীকে সাধারণ আসামীদের থেকে আলাদা রাখার কথা ভাবতে হত পুলিশকে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের সময়ে কোনও আসামী গ্রেফতার হওয়ার পর তার করোনা উপসর্গ দেখা দিলে পুলিশি হেফাজতে অন্য আসামীদের সঙ্গে এক লকআপে রাখার বিপদ নিয়ে এবার বাধ্য হচ্ছেন পুলিশ কর্তারা। সূত্রের খবর, লালবাজার লক আপের একটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন থেকে লালবাজার-সহ কলকাতার সমস্ত থানাগুলিতে করোনা উপসর্গ থাকা আসামীদের জন্য আইসোলেশন লকআপ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার।

প্রসঙ্গত, কোনও আসামীর যদি গ্রেফতারির আগে থেকেই করোনা উপসর্গ থাকে, তাহলে তাহলে পৃথক ভাবে জেল হেফাজতে রাখার পরিকল্পনা আগেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় গ্রেফতারির পর পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে। লালবাজার সূত্রের খবর, গত ১৮ জুলাই একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত একজনকে গ্রেফতার করে লালবাজারের গোয়েন্দারা। আদালতে তোলা হলে তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়। জেরা চলাকালীন ২২ জুলাই তার করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তারপর তাকে আইসোলেশনে রেখে পরদিন টেস্ট করানো হয়। রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাকে ভরতি করা হয় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তার জেরে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ১২ জনের বেশি পুলিশ আধিকারিককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ওই আসামীর সংস্পর্শে এক আধিকারিকের রিপোর্ট ইতিমধ্যে পজিটিভ এসেছে। আসামীর আগে থেকেই উপসর্গহীন সংক্রমণ ছিল, না কি তিনি লালবাজারের কারোর থেকে সংক্রামিত হয়েছেন, আপাতত এই বিষয়টি ভাবাচ্ছে পুলিশকে।

আরও পড়ুন: রক্সি সিনেমা হল পুরকর্মীদের জন্য নিয়মিত সোয়াব পরীক্ষার কেন্দ্র হচ্ছে

তবে এই ঘটনা রীতিমত আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে পুলিশকর্তাদের। ফের যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই তড়িঘড়ি এবার আইসোলেশন লক-আপ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘আমরা সদর দফতরে আইসোলেশন লকআপ তৈরির পরিকল্পনা করছি। করোনার উপসর্গ ধরা পড়লে সেখানে কোয়ারেন্টাইন করা হবে এবং অন্য ধৃতদের থেকে আলাদা রাখা হবে।’

তবে কলকাতা পুলিশের সব থানায় সেই আইসোলেশন লকআপ তৈরি করা কি সম্ভব হবে? কারণ অনেক থানাতেই জায়গার সমস্যা রয়েছে। পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন, আইসোলেশন লকআপের জন্য স্থানীয় থানাগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। দরকারে থানার কোনও একটি দফতরকে আপাতত অন্য দফতরের সঙ্গে একসঙ্গে রেখে আইসোলেশন লক-আপের জন্য জায়গা বার করতে পারা যায় কি না, তা দেখতে বলা হয়েছে থানার পুলিশকর্তাদের।

Related Articles

Back to top button
Close