fbpx
দেশব্লগহেডলাইন

বৃন্দাবনে সবাই সতী

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস:- রাজনীতি করাটা এখন বেশ ‘কামানো’র জায়গা। মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস, বিচক্ষণতা আর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেই কেল্লাফতে। একদম গ্রাম থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদ পর্যন্ত যেকোনও একটি কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে ভাবুন, দেখতে পাবেন একজন রাজনৈতিক পদাধিকারী একাধারে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী এবং প্রোমোটার এই তিনটি চরিত্রেই বেশ সাবলীল অর্থাৎ উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব।

প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি তার পরিধি অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি প্রচ্ছন্ন হস্তক্ষেপ অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ থাকে যেখান থেকে ভালো মাসোহারা আসে এবং সর্বোপরি যে কোন বাড়ি, জমি, সম্পত্তি কেনা- বেচা কিংবা লেনদেনে একটি বড় ভূমিকা থাকে, যেখান থেকে ভালো কামানো যায়। সে ইন্দিরা আবাসনের প্রকল্প ই হোক, কিংবা স্বচ্ছ ভারত এর নাম পরিবর্তন করে নির্মল বাংলা প্রকল্পের কাজই হোক, নতুন রেশন কার্ড, ভোটার কার্ডে নাম তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ই হোক কিংবা গ্রামীণ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়া অথবা জমি-জমা সংক্রান্ত পারিবারিক অথবা প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া- বিবাদ সংক্রান্ত ফয়সালা কিংবা ছেলে মেয়ের প্রেম ভালোবাসা সংক্রান্ত সালিশি সভা, যাই হোক না কেন গোপন আঁতাতের অর্থনৈতিক লেনদেন থাকবেই, এ ঘটনা চিরাচরিত।

এখানে ৩৪ বছর আর পরিবর্তনের সরকারের ১৪ বছরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। একই আবহাওয়া, একই মাটি, শরীরের রক্তের রং যখন এক, তখন আর আলাদা কিছু হওয়ার উপায় আছে? কৌটা নাচাতে নাচাতে কয়েকশো কোটির তহবিল কিংবা ৩ টি ট্রামস পার হতে না হতে একাধিক বাড়ি, বাতানুকূল গাড়ি, কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স, আসে কোথা থেকে? রাজনীতিতে সুবিধাবাদী এবং সমাজবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণের জায়গাটা অত্যন্ত শিথিল হওয়ায়, এখন নতুন প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ফলে ভালো মানসিকতার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন মুখের খুবই অভাব এবং এই ঘাটতি পূরণে কোনও রাজনৈতিক দলই সক্রিয় নয়। এজন্যই রাজনীতিতে খুন-ধর্ষণ, শ্লীতাহানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর সহ শিক্ষক- অধ্যাপকদের মারধর, হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্সদের উপর আক্রমণ, পুলিশ কর্মীদের উপর মারধরের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। আজকের টিকিয়াপাড়া,বাঁদুড়িয়ার মতো ঘটনা যেমন প্রতিনিয়ত ঘটছে, বিগত দিনের বানতলা, কামদুনি, গেদে, পার্ক স্ট্রিটের ঘটনাও কিন্তু কম জঘন্য ছিল না। এখন মিডিয়ার দাপাদাপি বেড়েছে, ফলে যেকোনও ঘটনা অতি দ্রুত প্রচারের আলোকে চলে আসে, তখন মিডিয়ার এত বাড়বাড়ন্ত অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, ফলে ঘটনা যত ই জঘন্য হোক না কেন, প্রচার কম ছিল। পার্থক্য এই টুকুই।

ঘটনার দায় কোনও রাজনৈতিক দল-ই এড়াতে পারে না।কিছু সুবিধাবাদী, ধান্দাবাজ লোক থাকেন, যারা সবসময় ক্ষমতা উপভোগ করতে ভালোবাসেন অর্থাৎ যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে তাৎক্ষণিক জার্সি পাল্টিয়ে সেই দলে ভীড়ে যায়, এরাই দলটাকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেয়। ঘটনার দায়, কোনও রাজনৈতিক দলই এড়াতে পারে না।

কিছু সুবিধাবাদী, ধান্দাবাজ লোক আছেন, যারা সবসময় ক্ষমতা উপভোগ করতে ভালোবাসেন, অর্থাৎ যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে তাৎক্ষণিক জার্সি পাল্টিয়ে সেই দলে ভীড়ে যায়। এরাই দলটাকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেয়। আর সমাজবিরোধীদের দলে জায়গা দেওয়ার রীতি? সব দলের মধ্যেই আছে, কারণ এদের যত বেশি ব্যবহার করা যাবে স্থানীয় স্তরে দল তত বেশি শক্তিশালী রূপ নেবে। এ অবস্থা হয়তো চলতেই থাকবে।

Related Articles

Back to top button
Close