fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কালীপুজোর পর কী হবে? কেন হাসপাতালের বেড নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য কমিশন?

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কালীপুজোর সময় বাজি নিষিদ্ধ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে বেনিয়ম হবেই, এমনটাই বলাই যায়। আর সেই সময় বাজির ধোঁয়ায় অসুস্থতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে করোনা রোগীদের। তাই সরাসরি হাসপাতালের বেড বাড়ানোর প্রয়োজন না পড়লেও আইসিইউ বেডের প্রয়োজন বেশি হতে পারে। অন্যদিকে লোকাল ট্রেন চালু হয়ে যাওয়ায় আসতে পারে করোনার সেকেন্ড বা থার্ড ওয়েভও। সেই কারণে এবার স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি পাঠিয়ে সাধারণ শয্যাকে আইসিইউ বেডে রূপান্তরিত করার আর্জি জানাল স্বাস্থ্য কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক মাসের কথা ভেবে শঙ্কিত কমিশন।এই সময়টায় ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া নিয়ে অনেকেই আইসিইউ আইটিইউ-তে থাকেন। এর মধ্যে করোনার চাপ এড়াতে কমিশন চাইছে বেসরকারী হাসপাতালগুলি অন্তত অস্থায়ীভাবে কিছু আইসিইউ তৈরি করুক। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতাল গুলিকে আইসিইউ ভেন্টিলেটর যন্ত্রপাতি কিনতে সাহায্য বা ধার দিতে চায় সরকার। আগামী কালীপুজো দীপাবলি উৎসবের মরশুমে করোনা সংক্রমণ এবং আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসা হবে তো ঠিকঠাক? শেষ পর্যন্ত সামাল দেওয়া যাবে তো? কোভিড চিকিৎসার রূপরেখা নিয়ে এমনই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশনে।
সাধারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনার আক্রান্তদের ৮০% সংক্রমিতকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়া বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হচ্ছে। ওই অসুস্থদের ৬% কে আইসিইউ-তে রেখে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ছে। রাজ্যে এখন দৈনিক গড় সংক্রমিত ৪ হাজারের কাছাকাছি। এর ৬ শতাংশ মানে ২৩৬ জন। প্রতিদিন এই সংখ্যক আইসিইউ বেডের প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সে কারণে বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত কিছু সাধারণ বেডকে আইসিইউ বেডে রূপান্তরিত করার আর্জি জানাল রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন।
কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ধরে নেওয়া হচ্ছে লেভেল ওয়ান, লেভেল টু হাসপাতালে বেডের অভাব নেই। বেডের অভাব হচ্ছে লেভেল থ্রি পর্যায়ে। যেখানে গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগী রয়েছেন। বেসরকারী হাসপাতালগুলির সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি অন্তত কিছু জেনারেল বেডকে আইসিইউতে রূপান্তরিত করুন। দুর্গাপুজো পার হয়েছে। সামনে আরও উৎসব রয়েছে। প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে ভেন্টিলেটর কিনুন। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা সাহায্য প্রয়োজন তা আমরা দেবো।” শহরের তুলনায় জেলায় আইসিইউ, ভেন্টিলেশন, সুপারস্পেশালিটি ব্যবস্থার হাসপাতাল কম। বেডেরও অভাব রয়েছে সেখানে। জেলায় আচমকা গুরুতর কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে কি করে সামাল দেওয়া যাবে তা নিয়েই চিন্তিত স্বাস্থ্য কমিশন। সেই কারণে স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি পাঠাল স্বাস্থ্য কমিশন।

Related Articles

Back to top button
Close