fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউন: কেমন আছে পটের গ্রাম হবিচক, নানকারচক ও মুরাদপুর?

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল যুক্ত গ্রাম এগুলো। এখানকার গরিবগুর্বো মানুষগুলোর অন্যতম পারিবারিক আয়ের একটা বড় অংশ ছিল মেলা-উৎসবে পট এঁকে বিক্রি করা। এঁরা পটুয়া। পটচিত্র অঙ্কনের কাজ করে সংসার চলে। ‘পটের গ্রাম’ বলা হয় চণ্ডীপুরের হবিচক, নানকারচক ও মুরাদপুরকে। বর্তমানে এই দুঃসময়ে আরো খারাপ হয়েছে তাঁদের অবস্থা। বাড়ির বাইরে বেরুনোর উপায় নেই। পট দেখানো, বিক্রি তো দূর অস্ত। প্রায় উপার্জনহীন জীবন কাটছে এঁদের।

 

স্থানীয় প্রশাসন, সহৃদয় ব্যক্তিরা কিছুটা পাশে আছেন। এবার এগিয়ে এল পটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশে গড়া ওঠা ‘হবিচক নানকারচক লোকশিক্ষা শিল্প পটুয়া সমিতি’। সমিতির সম্পাদক আবেদ চিত্রকর ও অন্যান্যদের উদ্যোগে আজ স্থানীয় হবিচক-নানকারচক-মুরাদপুর ও জেলার অন্যান্য স্থানে থাকা ১৫০ টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যসামগ্রী। ছিলেন চণ্ডীপুর ব্লকের বিডিও অভিষেক দাস, চণ্ডীপুর থানার আধিকারিক ইমরান মোল্লা, রবীন্দ্র পরিষদের সম্পাদক প্রতীক জানা, পটুয়া সমিতির উপদেষ্টা প্রদীপকুমার জানা, হিমাদ্রিনন্দন ভূঁঞ্যা, অরুণাংশু প্রধান প্রমুখ।

 

পটচিত্র অঙ্কনের কাজ ছাড়া এঁদের দ্বিতীয় কোনো পেশা নেই। জমিজমা নেই বললেই চলে। কখনো পটচিত্রপ্রিয় কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা পটচিত্র কিনে নিয়ে গেলে কিছুটা লাভ হয়। উৎসব-মেলার কয়েকটা মাস বাদ দিয়ে বাকি সময়ে নিতান্তই ক্ষুদ্র চাষী বা অসংগঠিত শ্রমিক এঁরা। দিনের শেষে পট এঁকে চলা এই মানুষগুলো আজ চরম দুর্দিনের মধ্যে। কোনো রকমে টিকিয়ে রাখতে চাইছে এই লুপ্তপ্রায় লোকঘরানাটিকে। একটা অনিশ্চিত অর্থনৈতিক জীবন নিয়ে বেঁচেবর্তে রয়েছে এই তিন পটের গ্রামের শিল্পী মানুষজন।

Related Articles

Back to top button
Close