fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শেষ মুহূর্তে প্রতিমার বরাত মেলায় অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা দিনহাটা: সপ্তাহ দুয়েক আগেও পুজোর উদ্যোক্তারা ছোট করে পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনওরকম বড় করে পুজো মণ্ডপ না হলেও বড় প্রতিমা দিয়ে পুজো করার উদ্যোগ নেন উদ্যোক্তারা। আর তার ফলেই শেষ মুহূর্তে প্রতিমার বরাত মেলায় অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের। মাঝে আর মাত্র কয়েকটি দিন। এই অল্প সময়ের মধ্যে মূর্তি তৈরি করতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে দিনহাটার মৃৎশিল্পীদের। প্রথমদিকে পুজোর জন্য মূর্তির সেভাবে বরাত মেলেনি। তাই তারা পুজো হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। সেক্ষেত্রে ছোট ছোট করে প্রতিমা তৈরি করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু শারদীয় উৎসব এগিয়ে আসতেই পুজো উদ্যোক্তারা শেষ মুহূর্তে বড় মূর্তি তৈরি বরাত দেন।

আর তার ফলেই মৃৎশিল্পীরা তড়িঘড়ি করে বড় প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু কোড়েণ। যারা ছোট এবং নমো নমো করে পুজো করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরবর্তীতে তারাও বড় মূর্তিতে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেয়। দিনহাটার কয়েকটি পুজো উদ্যোক্তা বলেন, কঠিন এই সময়ে বড় প্রতিমা দিয়ে পুজো করা নিয়ে তারা সন্দিহান ছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা সকলেই এগিয়ে আসায় ছোট প্রতিমার পরিবর্তে বড় প্রতিমা দিয়ে পুজোর সিদ্ধান্ত হয়। তাই প্রতিমার বায়না দেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি হয় তাদের। গত দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পুজো কমিটির পক্ষ থেকে বড় মূর্তির বায়না মেলে বলে মৃৎশিল্পীরা জানান। ছোট  প্রতিমার পরিবর্তে বড় প্রতিমার বায়না মেলায় এই অল্প সময়ের মধ্যে মূর্তি তৈরি ও সঠিক সময়ে পুজোর তাদের হাতে তুলে দেওয়া তাদের কাছে বাড়তি চাপ পড়েছে মৃৎশিল্পীদের কাছে। প্রতিবছর পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করেন।

[আরও পড়ুন- নন্দীগ্রামে সিপিএম, তৃণমূল ছেড়ে ২০০ কৃষক পরিবার বিজেপিতে যোগ]

এবছর করোনা আবহে গত কয়েক মাস ধরে সবধরনের পুজো বন্ধ ছিল। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজো হতে যাচ্ছে। তাই দিনহাটার বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারাও শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় এই বাড়তি চাপ বলেও উল্লেখ করেন মৃৎশিল্পীরা। তবে বড় পুজো মণ্ডপ না হলেও বড় মূর্তি দিয়ে পুজো করতে উদ্যোগী হয়েছেন অধিকাংশ পুজো কমিটি। তাই অল্প সময়ের মধ্যে সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে বড় মূর্তির বরাত মেলে তাদের। অল্প সময়ের মধ্যে মূর্তি কে সাজিয়ে তুলতে হচ্ছে।

মৃৎশিল্পী বঙ্কিম পাল, ধীরেন পাল, বাবু পাল প্রমুখ বলেন, “প্রথমদিকে ভেবেছিলাম পুজো সেভাবে হবে না। তাই তারা কয়েকটি ছোট মূর্তি তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে সপ্তাহ দুয়েক আগে বড় প্রতিমার বায়না মেলায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত কাজ করে চলছেন।”

মৃৎশিল্পীদের প্রদীপ পাল বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে সবরকম পুজোপাঠ বন্ধ রয়েছে। করোনা আবহে এবছর দুর্গা পুজো হবে কিনা তা নিয়ে তারাও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। তাই কয়েকটি ছোট ছোট মূর্তি তারা গড়েছিলেন। তবে পুজো উদ্যোক্তারা দেরিতে বড় মূর্তির  বরাত দেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে তাদের মূর্তি তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। হাতে আর সময় নেই। মাঝে মাত্র আর তিন দিন। অল্প সময়ের মধ্যে সব মূর্তি সম্পন্ন করতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।  আগে বানানো ছোট প্রতিমাগুলি বিক্রি না হলে কঠিন এই সময়ে নতুন করে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হবে।”

 

 

Related Articles

Back to top button
Close