fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাঁস প্রতিপালন লাভজনক

নিজস্ব প্রতিনিধি: সুষম খাদ্যের মধ্যে অন্যতম ডিম। সারাদিনে একটা ডিম খাওয়া সব মানুষেরই প্রয়োজন। আন্ডা কা ফান্ডা বলতেই মনে পড়ে যায় ছোটবেলার সেই বিজ্ঞাপন। আবার ডিম নিয়ে কথা উঠলেই প্রশ্ন আসে মুরগী আগে না ডিম? বহু প্রচলিত এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা থেকে বিরত থেকে ডিম দেয় যে হাঁস, তার পরিচর্চার কথা জানা যাক।

অধিক ডিম পাওয়ার জন্য হাঁসচাষীরা একটি  বিশেষ প্রজাতির হাঁসের প্রতিপালন করেন… খাকি ক্যাম্পবেল। বিশেষজ্ঞের মতে একটি খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস বছরে ৩০০টা ডিম পাড়তে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই  হাঁসপালন খুবই  লাভজনক। সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সব থেকে বেশি হাঁস প্রতিপালন করা হয়। এই বিশেষ ধরনের হাঁস প্রতিপালনের জন্য কী কী প্রয়োজন এবার তা জেনে নেওয়া যাক।

এই হাঁসের প্রতিপালনে যে ঘরটির প্রয়োজন হয় তা অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে। দুচালা ঘর হলে নীচ থেকে উপর ৮-৯ ফুট এবং পাশে ছফুট উঁচু করতে হবে। ঘরের নীচে  দেড়ফুট উঁচু করে তারজালি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাচ্চা হাঁসেরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে। শুধু তাই নয়, ঘরটির চারদিক ভালো করে ঢেকে রাখতে হবে। এর ফলে কোনও শিকারী প্রাণী থেকে এদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। শীতকালে ঘরের তাপমাত্রার খেযাল রাখতে হবে, কারণ হাঁসেদের ঠান্ডা লেগে যায়। ঘরের দেড় থেকে দুফুট অবশ্যই কংক্রিটের করতে হবে এবং তারওপর দিয়ে তারজালি বা নেট লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে রোদ উঠলে ওই নেটের পর্দা সরিয়ে দিতে হবে। ঘরটিকে প্রতিদিন পরিস্কার করতে হবে। জীবাণুনাশক হিসাবে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, কলিচুন,  ৫ শতাংস ফিনাইলের জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা উচিত। শুধু ঘর নয়, হাঁসেদের খাবার থালা, জলের পাত্রও প্রতিদিন পরিস্কার করা জরুরী।

হাঁসের বেশ কিছু রোগ হয় যা খুবই মারাত্মক এবং সেই রোগগুলির ফলে হাঁসের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। ভাইরাস জনিত রোগ ডাক প্লেগ। ছোট থেকে বড় সব রকম বয়সের হাঁসেদেরই এই রোগ হতে পারে। এই রোগের জন্য টিকা দেওযা জরুরী। ৪ সপ্তাহ বয়সের হাঁসের ডানার নীচে ০.৫ মিমি হারে এই ডাক প্লেগের টিকা দিতে হবে। এরপর প্রতি বছর এই টিকাকরণ জরুরী। হাঁসের আরেকটি ভাইরাস জনিত রোগ ডাক কলেরা। এটিও সব রকমের বয়সের হাঁসের মধ্যেই দেখা যায়। এই রোগে মূলত হাঁসের পায়ের গিট ফুলে যায, তারা হাঁটতে পারে না। এই রোগ প্রতিরোধেও টিকাকরণ আবশ্যিক। দু সপ্তাহ বয়সে একবার , তারপর ১৬ সপ্তাহ বয়সে এবং তারপর প্রতি ৬ মাস অন্তর ডাক কলেরা রোগের টিকাকরণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এই বর্ষাকালের আগেই হাঁসের টিকাকরণ যে হয়ে যায়। এছাড়াও হাঁসেদের কিছু কৃমি জাতীয় রোগ হয় যা তাদের বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ক্ষমতাকে ব্যহত করে। এই কৃমির হাত থেকে রক্ষা পেতে পাইপারাজিন নামক কৃমিনাশক ৫০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি ওজন হিসাবে হাঁসেদের খাওয়া হবে। অনেক সময় হাঁসেরা যে খাবার খায় তাতে আলফাটক্সিন জাতীয় ছত্রাক জন্মায়।

 

সাধারণত খাবার যদি ভিজে থাকে অনেকক্ষণ তাহলে এই ছত্রাক জন্মায়। সেই খাবার খেলে হাঁসেদের যকৃতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কিছু টক্সিন বাইন্ডার খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। একটা ব্যপার অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে হাঁসেদের খাবার যেখানে মজুত করা হবে তা যে মাটি থেকে বেশ কিছুটা উঁচু হয় এবং বৃষ্টির ছাট না লাগে। বছরে একবার হাঁসের পালক ঝরা স্বাভাবিক, কিন্তু একবারের অধিক পালক ঝরলে হাঁসের খাবারের দিকে নজর দিতে হবে।

এবার আসা যাক খাবারের কথায়। বাজার থেকে খাবার না কিনে যদি হাঁস প্রতিপালক নিজে হাঁসের খাবার তৈরি করেন তাহলে খরচ অনেকটা বাঁচে| হাঁসের খাদ্যের জন্য লাগবে ভাঙা ভুট্টা,  চালের খুদ,  ধানের গুড়ো,  বাদাম খোল, সযাবিন মিল, ভিটামিন ও মিনারেল মিশ্রণ, খাদ্য লবণ। এইসবের মিশ্রণ জল দিয়ে গুলে লেই বানিযে হাঁসেদের দিলে, বিশেষ করে বাচ্চা হাঁসেদের খেতে সুবিধে হয়।

প্রতিদিন হাঁস পিছু ১০০-১২০ গ্রাম খাবার দিতে হবে। ডিম দিতে শুরু করলে হাঁসেদের খাবারের পরিমান বাড়াতে হবে এবং প্রতি ১০০ কেজি খাবারে  শতাংস মিনারেল মিশ্রণ দিতে হবে। ২০ সপ্তাহের পর থেকেই খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস ডিম উৎপাদনে সক্ষম হয় এবং ডিম পাড়তে শুরু করলে প্রতি খাকি ক্যাম্পবেল বছরে ২৮০-৩০০টা ডিম দেয়। এদের ডিমের ওজন হয় প্রায় ৬৫-৭০ গ্রাম। এইভাবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খামারে হাঁসের প্রতিপালন করলে প্রতিপালক অবশ্যই লাভবান হবেন। মাথায রাখতে হবে যেহেতু হাঁস মাছ খেয়ে নেয় তাই ওই নির্দিষ্ট পুকুরে ১০ সেমি এর থেকে বড় মাছ রাখতে হবে। এইভাবে মাছ ও হাঁসের মিশ্রচাষও লাভদায়ী।

 

Related Articles

Back to top button
Close