fbpx
অফবিটব্লগহেডলাইন

করোনা কালে রাজনৈতিক নেতাদের দাপট কমেছে না বাড়ছে?

সুজয় অধিকারী: এ কেমন জনসেবা ! যেখানে লকডাউনের মধ্যে নিজেদের খাবার জোগাড়ের চিন্তায় রাত দিন এক করছে জনগণ, হাজারো মানুষের চাকরি চলে গেছে নতুন চাকরির সন্ধানে সকাল থেকে রাত হয়ে যাচ্ছে, প্রতিদিন বেরোচ্ছে মৃত্যু মিছিল, কতজন মানুষ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে তার ঠিক নেই। কিন্তু ভোটের রাজনীতি জোরদার চলছে। তেড়ে এল করোনা, শিকল বন্দি হলো দেশ, অন্যদিকে আপাতত বন্ধ রইল ভোট। শুরুতে রাজনৈতিক পালাবদলের মত ঐতিহাসিক ঘটনা সাক্ষী হয়েছে রাজ্যের লোক। করোনা মোকাবিলার জন্য কখনো কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠক তো কখনো সর্বদলীয় বৈঠক। ফলাফল আপাতত নজর কাড়ার মতো ছিল।

 

নবান্নে বৈঠকে সব দলই নিজ নিজ মতামত দিয়েছিল। সেই মতোই কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিছুদিনের জন্য হলেও সাধারণ মানুষের মনে হয়েছিল এবার হয়তো রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব বাংলার রাজনীতিতে কিছুটা কমবে। যেহেতু বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক, তাদের সঙ্গে নিয়ে করোনা মোকাবিলার পরিকল্পনা। তাই ধরে নেওয়া গিয়েছিল এবার হয়তো শুধু শাসক দল নয়, সরকারি যাবতীয় পদক্ষেপ সর্বদলীয় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা যাবে। কিন্তু হাতেগোনা কটা দিন যেতেই আবার শুরু হয়ে গেল কাদা ছিটানো। কখনো অভিযোগ উঠছে শাসকদলের সদস্য চাল চুরি করছে তো কখনো বিরোধী দল স্থানীয়দের নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে। উপরে ঘোষণা হলেও হয়তো তা কানাকানি পৌঁছায়নি নিচু স্তরে। তার ছোঁয়া লেগে ধীরে ধীরে উপরেও কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেল। অভিযোগ উঠল; বৈঠকে কথামতো মুখ্যমন্ত্রী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তার দলীয় নেতাদের কথাতেই কাজ হচ্ছে। তাহলে বৈঠকে দরকার কি ছিল! মুখ্যমন্ত্রী করোনা সংক্রমণের সংখ্যা লুকিয়ে রাখছে, রেশন ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না, লোকডাউনে শাসক দলের নেতাদের বেশি স্বাধীনতা আছে, কেন্দ্রের ত্রাণের টাকা কোথায় গেল, বিরোধীদলকে ত্রাণের জন্য রেশন বিলি করতে দেওয়া হচ্ছে না, এরকম আরো কত কি অভিযোগ উঠে এল বিরোধীদলের পক্ষ থেকে।

 

 

 

অন্যদিকে শাসকদলের পাল্টা দাবি; কেন্দ্রের লকডাউন বিরোধী দল মানছে না, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ত্রাণ বিলির চেষ্টা, মিথ্যা অভিযোগ তুলে আন্দোলন পথ অবরোধ এরকম নানান অভিযোগ। যদিও এগুলি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু লকডাউনের সময় এভাবে দলাদলি চলবে, সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য একে অন্যের দিকে আঙুল তুলবে এগুলো সাধারণ মানুষ আসাই করেনি। শুরুতে দেশের প্রধানমন্ত্রী আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাজে খুশি হয়ে ডাক্তার-নার্সের মত উঁচু জায়গায় বসিয়ে পুজো করা শুরু করেছিল। কিন্তু লকডাউনের মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে পরপর অভিযোগ ওঠায় করোনা মোকাবিলার জন্য, নজরদারির জন্য পরপর দু-বার কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হয় রাজ্যে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে রাজ্যের হাল হাকিকতের খোঁজ নিয়ে যান। তার কিছুদিন পরেই আম্ফানের ক্ষতি পূরণের জন্য আর্থিক সাহায্য আসে কেন্দ্র থেকে। সেখানেও অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রের দেওয়া টাকা প্রয়োজনীয় খাতে খরচ হচ্ছে না। এদিকে অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক।

 

 

 

প্রেস কনফারেন্সে বারবার বলা হচ্ছে করোনা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট পিপিই, ডাক্তারি মাস্ক, টেস্ট কিটে রাজ্যের নেই। অন্যদিকে চামচ, থালা, বাটির মতো বাসন পৌঁছে যাচ্ছে লোকের ঘরে ঘরে। সঙ্গে স্বজন পোষণের অভিযোগ আছেই। সব কিছুর মধ্যে বছরের বাকি সময় মতো দলবদল দেদার চলছে। শুধু দলবদল নয় এখন‌‌ আবার মাস্ক বদলের রীতি শুরু হয়েছে। নিজদলের লোগো, প্রতীক চিহ্ন মাস্কে খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। করোনার ভ্যাকসিন কবে বাজারে আসবে, কবে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হবে তাও অনিশ্চিত। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচন, দলবদল, এলাকাভিত্তিক প্রচার, কোন বুথে কত প্রার্থী লাইনে দাঁড়াতে পারবে এর হিসাব প্রমাণ করে দিচ্ছে খুব কাছেই নির্দিষ্ট হয়ে যাবে ভোটের তারিখ। সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেল যে ভোট-ই সবকিছু আর তার জন্য যে কোনো সময়ে প্রয়োজনীয় যাবতীয় পদক্ষেপ নিতে রাজি আছে সব রাজনৈতিক দল।

Related Articles

Back to top button
Close