fbpx
অন্যান্যকলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উছলে পড়া স্মৃতিকথায় প্রণব….

অরিজিৎ মৈত্র: ২০২০ সালের মৃত্যু মিছিলে দুদিন আগে যোগ দিলেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২৩ দিন ধরে  মৃত্যুর সঙ্গে কঠিন লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন। মন খারাপ দেশের মানুষের, বিশেষ করে বাংলার মানুষের। বাঙালির গর্ব প্রণব মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টজনেরা এখনও তাঁদের স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে নানান কথা বলছেন। সেই সব কথায় উঠে আসছে প্রণববাবুর বিভিন্ন কাজ এবং বহু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ যাতে প্রকাশিত হচ্ছে মানুষ প্রণব মুখার্জির চরিত্র।

কার্টুন-শুভময় মিত্র

জানা যাচ্ছে একজন অধ্যাপক, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একজন মন্ত্রী এবং সবশেষে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জীবনের জানা-অজানা কথা।

মাধবী মুখোপাধ্যায়: প্রণববাবু প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, সেটা তো আমাদের গর্বের বিষয়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে  মনে হয় যে তিনি আমাদের বড় আপনজন। নিজেদের ঘরের মানুষ। রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন ঠিকই, তবে একই সঙ্গে শিল্প এবং সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর আগ্রহ ও ভালোবাসা ছিল। পছন্দ করতেন বাংলা ছবি। অনেক দিনের সম্পর্ক ওঁর পরিবারের সঙ্গে। শুভ্রাদি মানে প্রণববাবুর স্ত্রীর সঙ্গে আমার সখ্যতা ছিল প্রায় ৩৫ বছর ধরে। ওদের মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সারাদিন খুব পরিশ্রম করতেন। ব্যস্ত থাকতেন প্রায় সারাদিনই, তাও বাড়িতে কোনও অতিথি এলে তাঁদের সঙ্গেও সময় কাটাতেন। আতিথেয়তায় অভাব দেখিনি কোনওদিন। আজকে যখন সেই সব কথা মনে পড়ছে, তখন স্বভাবতই মনটা ভীষণ উদাস হয়ে যাচ্ছে। বয়স হয়েছিল ঠিকই কিন্তু ওনার চলে যাওয়াটা যেন হঠাৎই। রোজই খবর নিতাম কেমন আছেন? মাঝে অনেকদিন ধরে শুনছিলাম একই রকম রয়েছেন, কোনও উন্নতি হচ্ছে না, তখন থেকেই চিন্তা হচ্ছিল। তারপর তো আমাদের আশাটাই সত্যি হল। ওঁর এই শূন্যতা পূরণ হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়: এই মুহূর্তে কী বলব, ঠিক বুঝতে পারছি না। বিভিন্ন সময় ও কারণে ওঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল কয়েকবার। আমার কয়েকটা আবৃত্তির অডিও সিডি ওঁকে উপহার দিয়েছিলাম। ২০১৫ সালে প্রণববাবুর সঙ্গে কলকাতা রাজভবনে দেখা করেছিলাম কারণ ‘মুখোমুখি’ এবং তপন সিংহ ফাউন্ডেশন আমার ৮০তম জন্মদিনে ঠিক করেছিল কয়েকদিনের অনুষ্ঠান করবে। সেই অনুষ্ঠানে দেশের রাষ্ট্রপতিকে  প্রধান অতিথি হিসেবে ওরা চাইছিল, সেই জন্যেই আমাদের পরিচিত ব্যক্তি শ্রেনিক শেঠের সঙ্গে রাজভবনে গিয়ে প্রণববাবুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে আসতে না পারলেও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। ওঁর যাওয়ার কথা ছিল আহমেদাবাদে। সেখানেও যেতে পারেননি কারণ ওই সময় ওঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যার জন্য দিল্লির আর্মি হাসপাতালে ভর্ত্তি ছিলেন। ডাক্তারের নিদের্শে দিল্লির বাইরে যাওয়া বারণ ছিল। রাজভবনে যখন দেখা করতে যাই, মনে আছে তখন আমার লেখা কবিতা সমগ্র ওঁকে উপহার দিয়েছিলাম। সেদিনকার অনেক কথা আজ স্মৃতিতে ভাসছে। আর কী বলব!

হর্ষ বর্ধন নেওটিয়া: প্রণববাবু তো একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ওনার কাজের কথা তো সবাই জানেন। সেটা নিয়ে নতুন করে বলার আর কি-ই বা থাকতে পারে? শুধু আমার সঙ্গে নয়, আমাদের গোটা পরিবারের সঙ্গে ওনার অনেকদিনের পুরনো সম্পর্ক। সাউথ কলকাতার বাড়িতে আমার বাবার সঙ্গে খুব যেতাম। বাবা ওনার সঙ্গে বহু ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।

প্রণববাবুর স্মৃতিশক্তি নিয়ে সবাই অনেক কথাই বলেছেন। সত্যিই যাঁরা ওনাকে ব্যক্তিভাবে চিনতেন, তাঁরা সবাই জানেন কি সার্প মেমারি ছিল ওঁর। বাড়িতে কী কী কাজ করতেন, পার্লামেন্টে কোন বিষয়ের উপর কী বলেছেন, সবটাই উনি মনে রাখতেন। দেশের অর্থনীতির ব্যাপারে ওঁনার অবদানের কথা বলতে গেলে শেষ করা যাবে না। দাদার সরলতাও আমাকে মুগ্ধ করত। আশ্চর্যে বিষয় হল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিরোধীরাও ওঁনাকে শ্রদ্ধা করতেন। সবাইকে নিয়ে চলতে পারার ক্ষমতা ওঁর ছিল। একজন রাষ্ট্রনায়কের যে পরিমাণ জ্ঞান, চিন্তা-ভাবনা থাকা দরকার, সবই ওঁনার ছিল। একদম সাধারণ একজন মানুষ জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে উঠে দেশের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছে ছিলেন। সেটা ভাবলে অবাক হতে হয়। গ্রেট জার্নি। ভাবতে খুবই খারাপ লাগছে যে উনি আর আমাদের ভিতর নেই। প্রার্থনা করি উনি যেখানেই থাকুন, ভালো এবং শান্তিতে থাকুন।

 

Related Articles

Back to top button
Close