fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশবাংলাদেশহেডলাইন

প্রণব মুখার্জী আমৃত্যু বাংলাদেশের পাশে ছিলেন: শেখ হাসিনা

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংসদে শোক প্রস্তাব

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা:  একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রতি প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যয়ের অবদান স্মরণ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার মৃত্যু উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করবে। রবিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রণব মুখোপাধ্যয়ের আত্মার শান্তি কামনা করেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর কথা আমি সব সময় স্মরণ করি। তিনি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। সেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন আমাদের পাশে ছিলেন, ১৯৭৫ এ আমাদের পাশে ছিলেন এবং এর পরবর্তীতেও যখন ২০০৭ এ আমি বন্দি তখনও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পক্ষে তিনি দাঁড়িয়েছেন, কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, এমনকি বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু নিয়ে আমার উপর দোষারোপ চাপালো তখনও তিনি সেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেছেন। সব সময় তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে এবং মানুষের কল্যাণে চিন্তা করতেন এবং পাশে ছিলেন।’
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এই উপমহাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে কিন্তু আমাদের দেশের জামাই- এটাও তো ঠিক, তিনি বিয়ে করেছিলেন নড়াইলে শুভ্রা মুখার্জীকে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাসিত জীবনে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সে সময়ও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। সেই স্মৃতি স্মরণ করে শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, ১৯৭৫ সালে যখন আমরা ভারতে ছিলাম, রিফিউজি হিসেবে থাকতে হয়েছে। নিজেদের নামও আমরা ব্যবহার করতে পারতাম না। কারণ এটা ভারত সরকারেরই একটা ইয়ে ছিল যে… নিরাপত্তার কারণেই আমাদের ভিন্ন নামে থাকতে হতো।

‘আমরা দুটি বোন একেবারে নিঃস্ব, রিক্ত অবস্থায় ওখানে যখন… প্রণব বাবু এবং তার পরিবার। আসলে একটা পারিবারিক যে একটা স্বাদ পাওয়া, কোনো আপনজনকে পাওয়া, তাদেরকে পেয়েছিলাম পাশে সব সময়। আর সেটা আমৃত্যু ধারাবাহিতকতাটা বজায় ছিল।’ প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জ্ঞানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি অত্যন্ত পড়াশোনা করতেন। উপমহাদেশে তার মতো প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ পাওয়া খুব মুশকিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং প্রতিটি বিষয়ের উপর তার যে দক্ষতা সব সময় আমরা সেটা দেখেছি এবং সেজন্য যে কোনো বিষয়ে তিনি ভুমিকা রাখতে পারতেন। ভারতেও তিনি কংগ্রেস করলেও সব দল কিন্তু তাকে সম্মান করে এবং সবাই তাকে দাদা বলেই ডাকেন।’

Related Articles

Back to top button
Close