fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পণের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন!

মিল্টন পাল, মালদা: বিয়ের চার বছর পর পণের মাত্র কুড়ি হাজার টাকার জন্য অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার পুখুরিয়া থানার বিষণপুর গ্রামে। থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  মৃতের নাম আসমিরা খাতুন(২৩)। বাড়ি পরানপুর অঞ্চলের বিষনপুর গ্রামে।মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, চার বছর আগে চাঁদপুরের আসমিরার দেখাশোনা করেই বিয়ে হয় পেশায় শ্রমিক বিষানপুরের শেখ হাইউলের সঙ্গে। বিয়ের সময় দাবি মতো পণের টাকা দিতে না পারায় কিছুদিন বাদে স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন হাইউল। সেই টাকা মেটাতে তার তিন ভাই ভিন্ রাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে যান। টাকা পেয়ে ১০ মাস বাদে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যায় হাইউল।তাদের দু বছরের একটি শিশুকন্যা রয়েছে। বর্তমানে আসমিরা আট মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু বকেয়া পণের টাকার দাবিতে সম্প্রতি আসমিরার উপরে তার স্বামী ও শ্বশুরবড়ির লোকজন ফের নির্য়াতন শুরু করে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে এলাকায় চারবার সালিশি হয়। হাইউল আর নির্যাতন করবেন না বলে জানালেও সমস্যা মেটেনি।

আরও পড়ুন- দুঃস্থ মেধাবীদের পাশে বিশ্বপ্রেমিক সংঘ

অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে ফের ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসার দাবিতে আসমিরার উপরে নির্য়াতন শুরু হয়। অভিযোগ, টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় স্বামী ও তার শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা। মঙ্গলবার টাকার জন্য বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন আসমিরা। টাকা না মেলায় শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসেন। রাতে মেয়ের বাড়িতে গন্ডগোল হচ্ছে বলে প্রতিবেশীদের কাছে জেনে তরিঘরি মেয়ের বাড়িতে ছুটে যায় মা। সেখানে গিয়ে মা জোলেদা বেওয়া দেখেন যে খাটের নীচে পড়ে রয়েছে আসমিরার মৃতদেহ।

মৃতের মা জোলেদা বেওয়া বলেন, মঙ্গলবার পরিবারে একজনের মৃত্যু হয়। সেই কারনে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত ছিলাম। তাই মেয়েকে বলি ফিরে গিয়ে স্বামীকে বুঝিয়ে বলতে। কিন্তু এরই মধ্যে এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। বালিশ চাপা দিয়ে মেয়েকে ওরা মেরে ফলেছে। স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের কঠোর শাস্তি চাই। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close