fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

RIDF প্রকল্পে রাস্তার কাজ ঠিকঠাক না হওয়ার কথা স্বীকার করলেন সভাধীপতি 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নজরদারির ঘাটতিতে ঠিকঠাক ভাবে কাজ না হওয়াতেই উঠে যাচ্ছে সদ্য তৈরি হওয়া রাস্তার পিচ ও পাথরের আস্তরণ। এই স্বীকারক্তি মিললো আরআইডিএফ প্রকল্পে রাস্তার কাজ সরোজমিনে খতিয়ে দেখতে আসা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সভাধীপতি ও ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে । ৩,৭৫ কিমি রাস্তার কাজে যেখানে যেখানে ত্রুটি রয়েছে সেই কাজ নতুনকরে করার সিদ্ধান্তের কথা রবিবার এলাকাবাসীকে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

আরআইডিএফ প্রকল্পে জেলার জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামনশীপুর থেকে রায়নার দেরিয়াপুর পর্যন্ত ৩,৭৫ কিমি পাকা পিচ রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে । স্থানীয় মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মল্লিক অভিযোগে বলেন , শুরু থেকেই এই রাস্তার নির্মান কাজ সিডিউল মেনে হয়নি ।গ্রামবাসীরা ওয়ার্ক অর্ডার দেখতে চাইলেও তা কিছুতেই জনসমক্ষে আনা হয়না । কিছুদিন হল রাস্তায় পিচ ও পাথরের আস্তরণ দেওয়া হয়েছে। মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ ,যে পিচ ও পাথরের আস্তরণ দেওয়া হয়েছে তা বাইক ও ট্র্যাক্টরের চাকার সঙ্গেই উঠে যাচ্ছে। এমনকি হাতে করে অাঁচড়ালেই উঠে আসছে পিচ ও পাথরের আস্তরণ।

নির্মান কাজে যুক্ত এজেন্সির লোকজনকে ভালভাবে কাজ করতে বলা হলেও তারা কোন কর্ণপাত করে না। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকদিন আগে মাঠনশিপুর গ্রামের বাসিন্দারা রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন । রাস্তা তৈরির কাজ ঠিকঠাক ভাবে করা না হলে রাস্তার কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা হুুঁশিয়ারিও দেন।

এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হতেই তা নবান্নের নজরে আসে । তারপরেই নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন ।দিন দুই আগে জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সাত সদস্যের একটি দল এলাকায় পৌছে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়েযান। রবিবার খোদ পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদ সভাধীপতি শম্পা ধারা ,ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার সেখ মহম্মদ হোসেন সহ অন্য ইঞ্জিনিয়ার এবং জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান প্রমুখরা রাস্তার কাজ খতিয়ে দেখতে যান । রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে সভাধীপতির সামনেই এদিন ক্ষোভ উগরে দেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ।

তার ছবি সাংবাদিকরা ক্যামেরা বন্দি করার সময়ে সভাধীপতি ও তাঁর দেহরক্ষিরা আপত্তি তোলেন ।যদিও সাংবাদিকরা অনড় মনোভাব দেখানোয় পরে তারা পিছু হাটেন। গ্রামবাসীরা এদিন স্পষ্ট জানিয়েদেন ,খোদ সভাধীপতি ও ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার এলাকায় এসে রাস্তার কাজ খতিয়ে দেখে কাজ খারাপ হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ।রাস্তার কাজ ভালো ভাবে হবে বলে তাঁরা আশ্বস্তও করেছেন । এরপরেও যদি রাস্তার কাজ ভালোভাবে না হয় তবে তাঁরা ফের আন্দোলন শুরু করবেন ।

জেলাপরিষদের সভাধীপতি শম্পা ধারা এদিন বলেন ,“পুজোর সময়ে নজরদারিতে হয়তো কিছু ঘাটতি হয়েছে । তবে সিডিউল মেনেই কাজ হবে । যেখানে যেখানে কাজে গলদ রয়েছে সেই সব জায়গায় নতুন করে পিচ ও পাথরের আস্তরণ দিতে হবে । ওয়ার্ক অর্ডার সিডিউল জনসমক্ষে আনা প্রসঙ্গে সভাধীপতির যুক্তি ,কাজের সিডিউলের পাবার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে হবে । বিডিও , পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে রাস্তার কাজের সিডিউলের কপি দেওয়া আছে । জেলা পরিষদে যোগাযোগ করলেও কাজের সিডিউলের কপি গ্রামবাসীরা পেয়ে যাবেন । ”

ডিসট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার ( জেলাপরিষদ ) সেখ মহম্মদ হোসেন জানিয়েছেন , আরআইডিএফ প্রকল্পে জামালপুরের নশীপুর ধানকল থেকে রায়নার দেরিয়াপুর পর্যন্ত পাকা পিচ রাস্তা তৈরি হচ্ছে । রাস্তার দৈর্ঘ ৩,৭৫ কিমি । রাস্তা নির্মানের জন্য ২ কোটির মত টাকা বরাদ্দ হয়েছে । এলাকাবাসীর তোলা অভিযোগ যে অমূলক নয় তা এদিন একপ্রকার স্বীকার করেনেন ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ হোসেন। তিনি বলেন ,রাস্তা নির্মানের সময়ে কিছু কিছু জায়গায় টেকনিক্যাল ডিফেক্ট হয়েছে । তা রেকটিফাই করা হবে । পিচ ও পাথরের আস্তরনের নিচে ধুলো রয়েছে । সেই ধুলো সাফ করা হয়নি । যেখানে যেখানে কাজে গলদ রয়েছে সেইসব জায়গায় পিচ ও পাথরের আস্তরণ তুলে ফেলে দিয়ে পুনরায়  তা সঠিক ভাবে করা হবে । ”অন্যদিকে গ্রামবাসীদের সামনেই জেলাপরিষদের সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়র সভাধীপতিকে বলেন ,“তিনি ঠিকাদার সংস্থাকে কাজ বুঝিয়ে দেবার পরেও তারা ঠিকঠাক কাজ করেনি । ”

Related Articles

Back to top button
Close