fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঐতিহাসিক দিনেই লকডাউন, রাস্তায় নাকা তল্লাশি পুলিশের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার্তা আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লকডাউনের মধ্যে বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে রাস্তায় নেমে কেউ কোনও রকমের জমায়েত বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ পালন করতে গেলে প্রশাসন কড়া হাতেই তার মোকাবিলা করবে। গত মাসেই সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিকেই পর পর বেশ কিছু উৎসব পড়ে যাওয়ার কারনে সপ্তাহে দুইদিনের লকডাউন কিছুটা হলেও শিথিল হয়ে পড়েছিল। তবে আগস্ট মাসেও যে লকডাউন জারি থাকবে সেতা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে প্রায় চারবার পরিবর্তন হওয়ার পরে চূড়ান্ত হয় আগস্ট মাসে লকডাউনের দিনক্ষন।

করোনাগ্রাফ সকলেরই চিন্তার ভাঁজ চওড়া করছে। এই পরিস্থিতিতে সাপ্তাহিক লকডাউনের মাধ্যমে সংক্রমণের চেনকে ভাঙার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। তাই বুধবার গোটা রাজ্যজুড়ে চলছে লকডাউন। আগস্টের প্রথম লকডাউনে শুনশান রাস্তাঘাট। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন  মোড়ে মোড়ে নাকা তল্লাশির বন্দোবস্তও করা হয়েছে। অকারণে বাইরে কেউ বেরলে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে যথোপযুক্ত বন্দোবস্তও।

প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনে নিয়ম ভেঙে মার্চের শেষের লকডাউনে রাস্তায় বেরতে দেখা যেত অনেককেই। তবে আগস্টে সেই চেনা ছবি উধাও। পরিবর্তে মাসের প্রথম লকডাউনে রাস্তায় নেই মানুষের ভিড়। শহরে ব্যস্ততম ধর্মতলা মোড় হোক কিংবা কাঁকুড়গাছি বা জেলার বিভিন্ন অলিগলি সর্বত্রই শুনশান। কার্যত জনমানবশূন্য চতুর্দিক। ওষুধ ছাড়া অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ। কোথাও নেই মানুষের ভিড়। রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী। চলছে নাকা তল্লাশি। রাস্তায় বেরনো প্রত্যেকটি গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে দেখা হচ্ছে গাড়িচালক কিংবা আরোহীদের পরিচয়পত্র। আদৌ সত্যি কোনও জরুরি প্রয়োজনে তাঁরা বেরিয়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন রাস্তায় টহলরত পুলিশকর্মীরা। এছাড়া প্রত্যেকে মাস্ক পরেছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমানে লকডাউন অমান্য করে রাস্তায় বেরনোর প্রবণতাও সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট কম। তার ফলে কিছুটা হলেও কমেছে পুলিশের ঝক্কি।

আরও পড়ুন: অযোধ্যায় ভূমি পুজোর দিন পূর্ব বর্ধমানের অনেক জায়গাতেও হল রাম-সীতার পুজোপাঠ

এদিন আবার অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভূমি পূজনের দিন। অযোধ্যা তো বটেই কার্যত গোটা উত্তর ভারত জুড়েই সাজ সাজ রব। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে গেরুয়া শিবির যতটা উৎসাহী ঠিক ততটাই সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিরোধী শিবির থেকে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজে। এই রাজ্যেও বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করা হয়েছিল আজকের লকডাউন তুলে নিতে। যদিও তাতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি রাজ্য। বজায় রাখা হয়েছে লকডাউন।

লকডাউনের জেরে এদিন রাজ্য জুড়েই বন্ধ থাকছে সমস্ত রকমের পরিবহণ ব্যবস্থা। বাস, ট্রেন, বিমান, অটো, ট্যাক্সি, টোটো সব বন্ধ থাকবে। বন্ধ রাখতে হবে সব দোকানপাট ও বাজার। বন্ধ রাখা হবে সমস্ত রকমের সরকারি ও বেসরকারি অফিস। তবে এর বাইরে ছাড় পাচ্ছে দুধের দোকান, ওষুধের দোকান, অত্যাবশক পণ্য সরবরাহ, চিকিৎসা ও হাসপাতাল পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, দমকল ও সংবাদকর্মীরা। সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে এই লকডাউন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। পরবর্তী লকডাউন থাকছে আবার আগামী শনিবার।

Related Articles

Back to top button
Close