fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে বারোবিশা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসনগুলি

সুকুমার রঞ্জন সরকার, কুমারগ্রাম: বছর পয়ত্রিশ আগে রাত বিরেতে অসুস্থ হলে এলাকাবাসীর ভরসা ছিলেন বারোবিশা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসনে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। পয়ত্রিশ বছর আগে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে যাবার পর পর স্বাস্থ্য কর্মীরাও আবাসন গুলি ছেড়ে চলে যান। তখন থেকে রাত বিরেতে কেউ অসুস্থ হলে এলাকাবাসীকে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় দশ /পনেরো কিলোমিটার দূরের কুমারগ্রাম ব্লকের গ্রামীণ হাসপাতাল কামাক্ষ্যাগুড়িতে। রাত বিরেতে এতদুরে রোগী নিয়ে যেতে কালঘাম বেরিয়ে যায় পরিবারের লোকেদের। গ্রামীণ হাসপাতালেও সব ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা না থাকায় রাতেই রোগীকে রেফার করে দেওয়া হয় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরের আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে।

রাত বিরেতে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে এলাকাবাসীর দাবী আবাসন গুলি সংস্কার করে সর্বক্ষণের একজন চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবী জানানো হলেও সেই দাবী আজও পুরন হয়নি। বারোবিশা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র মোহন পাল জানান, এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন সর্বক্ষণের চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করে দশটি শয্যা চালুর দাবী দীর্ঘদিন ধরে বারবার জানানো সত্বেও দাবী পুরনে তৎপর হয়নি স্বাস্থ্য দপ্তর।

কুমারগ্রাম ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার মিজানুর ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দাবী উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক ও পাঁচ জন স্বাস্থ্য কর্মী সকাল এগারোটা থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসন গুলি সংস্কার করে সর্বক্ষণের একজন চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করার বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন রকম নির্দেশ জারী করেনি। এলাকাবাসী অপেক্ষায় আছেন কবে সেই নির্দেশ জারী হবে, রাত বিরেতে প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা পেতে তাদের আর নাকাল হতে হবেনা। তবে এলাকাবাসীর ভাগ্যে সেই সুযোগ আদৌ আসবে কিনা তা বলবে সময়।

Related Articles

Back to top button
Close