fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাংলোর দেওয়ালে তৃণমূলের কুরুচিকর মন্তব্য

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ধরণীধর পাত্রের মেয়াদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের আন্দোলন বুধবার দ্বিতীয় দিন। এদিন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বাংলোর সামনে বসে বিক্ষোভ-অবস্থান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল সংগঠনগুলি। পাশাপাশি উপাচার্যের বাংলোর দেওয়ালে নানা কুরুচিকর মন্তব্য লিখে তাঁকে মানসিক হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন উপাচার্য ধরণীধর পাত্র স্বয়ং।
এই বিষয়ে উপাচার্য ধরণীধর পাত্র বলেন, রাজ্যপাল নোটিশ দিয়েছেন।

এখানে আমার দোষ কোথায়। বাংলোয় বয়স্করা রয়েছেন সেখানে ছোট বক্স বাজিয়ে দেওয়ালে নানান কুরুচিকর মন্তব্য লিখে আমাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যে পদ্ধতিতে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা সেই বিষয়ে আমি রাজ্যপালকে চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ জানাব ঠিক করেছি। পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করব সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, উপাচার্যের বাংলোর দেওয়ালে লেখা রয়েছে “উপাচার্য গুন্ডা, দালাল,চোর”। কোথাও আবার লেখা “বিজেপির দালাল ধরণীধর পাত্র।” যদিও এই বিষয়টি অস্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংসদের সম্পাদক মরণ কুমার দে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমার জানা নেই। কারণ, আমাদের আন্দোলন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে।

এই আন্দোলনে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মী সংগঠনগুলি। সম্পূর্ণ অগণতান্তিক ভাবে উপাচার্যের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। অতএব উপাচার্যের পদত্যাগ আমরা চাইছি। যতক্ষন না উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন ততক্ষণ আমাদের এই আন্দোলন চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, চলতি বছরের ৯ ই জুন মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ধরণীধর পাত্রের। ইতিমধ্যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর নোটিশ পাঠিয়ে জানান, উপাচার্য ধরণীধর পাত্রের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে ৬ মাসের জন্য। আর এখানেই বিরোধিতা করে তৃণমূল পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংসদের কর্মীরা।

এই বিষয়ে বিজেপির তরফ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিপিএম নেতা শান্তনু ঝা বলেন, বিষয়টি রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের বিরোধ। ফলে রাজ্যপালের সঙ্গে বিষয়টি বোঝা উচিত। ব্যক্তি হিসেবে কাউকে কিছু বলার নেই। প্রত্যেকের যুক্তিসম্মত প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূলের এই আন্দোলন ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অগণতান্তিক ভাবে যদি উপাচার্যের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় তাহলে উপাচার্যের বাংলোয় নানান কুরুচিকর মন্তব্য লিখে কোন গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালাচ্ছে তৃণমূল সংগঠন? যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে “স্পিকটি নট” তৃণমূলের সংগঠন গুলি।

Related Articles

Back to top button
Close