fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ভাড়ার নামে লুঠ চলছে বেসরকারি বাসে, অভিযোগ যাত্রীদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পুরনো ভাড়াতেই পথে নামানো হবে বাস-মিনিবাস। মালিকদের সংগঠনগুলোর তরফে এমনটাই জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল একেবারে অন্য ছবি। বৃহস্পতিবার যে সমস্ত বাস-মিনিবাস পথে নেমেছে, যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে যেমন খুশি ভাড়া। কোনও রুটে বাসে পা দিলেই দিতে হয়েছে ১০ টাকা, কোথাও আবার ১৫ বা ২০। সরকারি নির্দেশ ছাড়া এ ভাবে বেশি ভাড়া নেওয়া যায় কি? পাশাপাশি এদিন নানা প্রান্ত থেকে অভিযোগ এসেছে বাসভাড়ার নামে কার্যত লুঠ শুরু হয়েছে। বাসে উঠলেই ১০টাকা আর মিনিবাসে উঠলেই ১২টাকা গুনতে হচ্ছে। অধিকাংশ স্তরে আবার টিকিটই দেওয়া হচ্ছে না। কনডাক্টরদের জবাব, যত আসন, তত যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হলে যাত্রীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। আর মালিকদের সংগঠনগুলোর দাবি, তারা পুরনো ভাড়াই নিতে বলেছে। এর পরেও যদি কেউ বেশি ভাড়া নিয়ে থাকে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবারের বৈঠকের পরেই বাসমালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়ে দিয়েছিল, আজ বৃহস্পতিবার থেকেই শহর ও শহরতলির রাস্তায় নামবে বাস। সেই মতো এ দিন সকাল থেকেই রাস্তায় বাস-মিনিবাসনামতে দেখা যায়। যাত্রীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে পা দিলেই ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া থেকে সল্টলেক— অধিকাংশ বাস-মিনিবাসের কনডাক্টরই এ দিন যেমন খুশি ভাড়া হাঁকিয়েছেন।

রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনের সদস্যরা। সেই বৈঠকের পরে বাস মালিকেরাই জানিয়েছিলেন, তাঁরা পুরাতন ভাড়াতেই রাস্তায় বাস নামাচ্ছেন তবে এবার থেকে বাস ভাড়ার বিষয়টি দেখবে নবগঠিত রেগুলেটরি কমিটি। সেই সঙ্গে শুভেন্দুবাবুও জানিয়েছিলেন পুরনো ভাড়াতেই রাস্তায় বাস নামাবেন বেসরকারি বাসের মালিকেরা। সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানিয়েছিলেন রাস্তায় কেউ বেশি ভাড়া নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

আরও পড়ুন: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধনে অনুমোদন মোদি সরকারের

অথচ গতকাল থেকেই যাত্রীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার সামনে দাঁড়াচ্ছেন। যাত্রীরাই জানিয়েছেন, বাসের ক্ষেত্রে উঠলেই যেমন ১০টাকা দিতে হচ্ছে তেমনি তার পরের স্টেজগুলিতে দিতে হচ্ছে ১২ টাকা, ১৫ টাকা, ১৮ টাকা ও ২০ টাকা। অথচ কোন স্টেজ কোথা থেকে কতটা তার কোনও চার্টও নেই। মিনিবাসের ক্ষেত্রে উঠলেই দিতে হচ্ছে ১২টাকা। পরের স্টেজগুলিতে নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, ২০ টাকা, ২৫ টাকা। তাঁদের কাছেও থাকছে না কোনও চার্ট। সব থেকে বড় কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না টিকিট।

আর তা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কন্ড্রাক্টরদের বিবাদ যেমন বাঁধছে ঠিক তেমনি বেশ কিছু যাত্রী ভোগান্তির কথা ভেবে মুখ বুজে তা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সব দেখেশুনে তাঁরা নিজেরাই জানাচ্ছেন, করোনার সুবিধা নিয়ে কার্যত গলাকাটা দরে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি বাস ও মিনিবাসে। ভাড়া নেওয়ার নামে কার্যত লুঠ চলছে। এই নিয়ে দফতরের কর্তারাও খোঁঁজ নিচ্ছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারওকেই ছাড়া হবে না। কারণ, সরকারের নিয়ম ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে এই কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু তপনবাবু জানিয়েছেন, যাত্রীরাই নাকি বেশি ভাড়া দিচ্ছেন। চালক-কনডাক্টটরদের বলা হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে। যদি এরকম কিছু হয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close