fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সোমবার থেকে নামছে না বেসরকারি বাস, ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে অনড় মালিক সংগঠন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বরফ গলল না! রবিবার জয়েন্ট ফোরাম অফ বাস সিন্ডিকেট বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিল, ভাড়া না বাড়ালে ওই অনুদান নিয়ে বাস চালানো সম্ভব নয়। বাস মালিকদের সংগঠন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার থেকে তারা রাস্তায় বাস নামাবেন না। যাত্রী সুবিধায় আরও বেশি সংখ্যক বাস নামাতে বেসরকারি বাস মালিকদের আগামী তিনমাস ১৫ হাজার টাকা করে ভরতুকি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি চালক ও কন্ডাক্টরদেরও স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনার কথা বলেছেন। সরকারের দেওয়া এই প্যাকেজ নেবে না বলে জানিয়েছে অধিকাংশ বাস মালিক সংগঠন। তাঁদের দাবি, বাস ভাড়া বাড়াতেই হবে। ভরতুকি কোনও সমাধান নয়।

জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা জানিয়েছেন। এর ফলে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। রবিবার জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিনডিকেটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। তপনবাবু জানান, “আমাদের বাস পিছু পাঁচজন করে কর্মী। তাঁদের টাকা দিয়ে, ৩৪ জন যাত্রী নিয়ে, বাস স্যানিটাইজ করে, পুরোনো ভাড়া জারি রেখে আমরা বাস চালাতে পারব না। তার ওপর ডিজেলের দাম রোজ বাড়ছে। রাজ্য সরকারের ১৫ হাজার টাকা ভর্তুকিতে আমাদের কী হবে? আমরা কী পকেটের পয়সা দিয়ে বাস চালাব?”

আরও পড়ুন: এখনই বিধানসভা ভোট হলে এ রাজ্যে কারা সরকার গড়বে: বিজেপি না তৃণমূল?

বাস মালিকদের তরফে এদিন বলা হয়েছে, পুরনো ভাড়ায় যত সিট তত যাত্রী নিয়ে বাস চালালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। আর মুখ্যমন্ত্রী যে অনুদানের কথা বলেছেন তা হিসাব কষলে দেখা যাবে প্রতি দিন পাঁচশ টাকা ঘাটতি মিটবে। তাঁদের প্রশ্ন, বাকি টাকাটা আসবে কোথা থেকে। আন লক পর্ব শুরু হওয়ার সময় থেকেই সরকারের সঙ্গে বাস মালিক সংগঠনের দর কষাকষি চলছে। তাদের প্রস্তাবে একটি রেগুলেটরি কমিটিও গঠন হয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী এবং পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারি বাস বেশি করে চালালেও এট চাপ নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ কলকাতা শহরে মেট্রো না চলা এবং অল্প সংখ্যায় বেসরকারি বাস চলার ফলে পুরো চাপটাই সরকারি বাসের উপর এসে পড়ছে। যদিও সরকারের সঙ্গে আলোচনা পর্বে অনেক বাস মালিক রুটে গাড়ি নামিয়েছিলেন কিন্তু এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, প্রতিদিন ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়ে বাস চালানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া বাস মালিকদের আরও বক্তব্য পেট্রল-ডিজেলের দামও রোজ বাড়ছে। নিত্যযাত্রীদের আশঙ্কা, বেসরকারি বাস যদি রাস্তায় নাই নামে তাহলে কাজে কর্মে বেরিয়ে চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যে পড়তে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close