fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দামি মোবাইল চুরি করে ব্যবহার করতে সমস্যা, মালিককে ফেরত দিল চোর

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: কথায় আছে চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা, যদি না পড় ধরা। এই আপ্তবাক কতটা যে সত্যি তা আরও একবার প্রমান করে দিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের অজ পাড়াগাঁয়ের যুবক আলমগির। যা নিয়ে এখন তুমুল চর্চা চলছে জামালপুরে।

জামালপুর থানার জ্যোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম শাহহুসেনপুর দেওয়ানপাড়া। এই গ্রামটিকে একেবারে অজ পাড়াগাঁ বললেও অত্যুক্তি হবে না। এই গ্রামেরই এক যুবক আলমগির গত শুক্রবার সকালে জামালপুরের শুভাশিস ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তির বহু দামি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বিদ্যেবুদ্ধি কম থাকায় সেই ফোনটি কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তা তিনি কোনভাবেই বুঝে উঠতে পরেনি। এর ফলে যুবক মহাফাঁপরে পড়ে যান। তিনি কোনোক্রম ওই ফোনটি বন্ধ করে দিয়ে চুরির দায় থেকে বাঁচার পথ খুঁজতে শুরু করেন। তারই মধ্যে খোয়া যাওয়া ফোন ফিরে পেতে জামালপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন ফোন মালিক শুভাশিস ভট্টাচার্য। অভিযোগ পাবার পর পুলিশ তদন্তে নামে। এরপরেই বেগতিক বুঝে দু’দিনের মাথায় শনিবার সন্ধ্যায় যুবক নিজেই ধরা দিলেন ফোন মালিকের কাছে। ফোনটি নিতে আসার কথাও যুবক শুভাশিস বাবুকে জানায়। এরপর ওইদিন রাতে সিভিক ভলেন্টিয়ারের উপস্থিতিতে যুবক ৪৬ হাজার টাকা দামি ফোনটি শুভাশিসবাবুর হাতে তুলে দেয়। যুবক যদিও নিজের নাম জানাতে চায়না।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে ওই যুবকের নাম আলমগির। শুভবুদ্ধি জাগ্রত হওয়ার জন্য শুভাশিস বাবু মস্ত এক প্যাকেট মিস্টি ওই যুবকের হাতে তুলে দিয়ে তাঁকে সততার পথে চলার উপদেশ দিয়ে এসেছেন। বিনা পুলিশি ঝঞ্ঝাট ছাড়া ফোন হাতিয়ে নেওয়ার দায় থেকে মুক্তি মেলায় যুবক আলমগির ফোনটির মালিকেও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেনি।

শুভাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন , গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি জামালপুর থানা মোড়ের একটি মিষ্টির দোকানে মিষ্টি কিনতে যান। মিস্টি কিনে টাকা দেবার সময়ে তিনি বুক পকেটে রাখা ফোনটি বেরকরে মিস্টির দোকানের শোকেসের উপরে রাখেন। টাকা মেটানোর পরে ফোনটি আর না নিয়ে ভুল করে তিনি চলে আসেন। শুভাশিস জানান, খানিক বাদ ফোনের কথা মনে পড়তেই তিনি ওই মিস্টির দোকানে ফের যান। কিন্তু তিনি তাঁর ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপল কোম্পানির ফোন আর সেখানে পান না। অনেক খোঁজা খুঁজির পর ফোন না পেয়ে ওই দিনই তিনি জামালপুর থানায় লিখিত ভাবে সবিস্তার জামান।

অভিযোগ পবার পর পুলিশও তদন্থে নামে। মিস্টির দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেও কাউকে সনাক্ত করতে পারা যাইনা। অন্যের ফোন থেকে শুভাশিস বাবু নিজের ওই ফোন নম্বারে ফোন করেন কিন্তু ফোন সুইচ অফ হয়ে থাকে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ফোনটি ফের অন হয়। তখন শুভাশিস বাবু অন্য ফোন নম্বার থেকে নিজের ওই ফোনের নম্বারে ফের ফোন করেন। তখন ওই যুবক জানায় ফোনটি তার কাছে আছে। ওই ফোনটি ব্যবহারের কায়দা কানুন সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। ফোনের মালিকের সঙ্গে কথা বলার পর যুবক ফোনটি ফেরৎ দিতে রাজি হয়। ফেনের মালিক শুভাশিস বাবু এই কথা থানায় গিয়ে জানান। রাত ১০ টা নাগাদ সিভিক ভলেন্টিয়ার কবির মল্লিকের সঙ্গে শুভাশিস বাবু ও তাঁর দাদা দেবাশিস বাবু শাহহুসেনপুর দেওয়ানপাড়া নিবাসী যুবক আলমগিরের বাড়িতে পৌঁছান। যুবক ফোনটি তুলে দেন শুভাশিস বাবুর হাতে। শুভাশিস বাবু বলেন, হাতিয়ে নেওয়া ফোন ফিরিয়ে দেবার শুভবুদ্ধি জাগ্রত হওয়ার জন্য তিনি যুবকের হাতে মস্ত একটা মিস্টির প্যাকেট তুলে দিয়ে তাঁকে সততার পথে চলার উপদেশ দিয়ে এসেছেন।

রবিবার শুভাশিস বাবু বলেন, বিদ্যেবুদ্ধি না থাকায় অনেক ঘাঁটাঘুটি করেও যুবক হাতিয়ে নেওয়া তাঁর ফোনটি চালু করতে পারেনি। তাঁর দামি ফোন থেকে সিমকার্ড খুলে নিয়ে অন্য যুবক অন্য ফোনে সিমকার্ডটি লাগায়। এই সব করতে গিয়ে তাঁর দামি ফোনটি যুবক লক করে ফেলেছে। সেই জন্য ফোন পেয়েও তিনি ফোনটি ব্যবহার করতে পারছেন না‌।

Related Articles

Back to top button
Close