fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অনুমতি ছাড়া প্রকল্প! বনদফতরের জমিতে পঞ্চায়েত কর্তৃক উদ্যান তৈরী ঘিরে বিতর্ক

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: অনুমতি ছাড়া বনদফতরের আগাছার জঙ্গলে পরিত্যাক্ত জমিতে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প। তৈরী হয়েছে আম, লেবুর বাগান, পুকুর তৈরী করে চলছে মাছ চাষ।নজর কেড়েছে জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের। আর ওই প্রকল্পের জমিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হল। ঘটনাটি কাঁকসার গোপালপুরে গোঁসাইডাঙা এলাকায়। জমি বিতর্কের পিছনে কি অন্য কারন রয়েছে? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের গোঁসাইডাঙা গ্রাম। প্রায় সাড়ে তিন’শ আদিবাসী পরিবারের বসবাস। গ্রামের অদুরে কাাঁকসা, বামুনাড়া শিল্পতালুক। দুষিত ধোঁয়ায় গ্রাস করছে এলাকার পরিবেশ। গত বছর পাঁচেক আগে গ্রামের পাশে বনদফতরের ৬ বিঘার একটি পরিত্যাক্ত জমিতে উদ্যান পালনের কাজ শুরু করে স্থানীয় পঞ্চায়েত। আগাছার জঙ্গলে একসময় দুস্কৃতীদের অবাধ বিচরন ছিল।

ওই জমির জঞ্জাল সাফাই করে ১০০ দিনের প্রকল্পে উদ্যান পালন হয়। বেশ কয়েক দফায় প্রায় ২৭০০ বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছ, লেবু গাছ লাগানো হয়। তৈরী করা হয় একটি পুকুর। কংক্রিটের সরু রাস্তা তৈরী করা হয়। সম্প্রতি ওই বাগানের সব গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে গোঁসাইডাঙা আদিবাসী গ্রামের তিনটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। ওইসব মুল্যবান গাছের সুরক্ষার জন্য সম্প্রতি বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়।

মাস ছ’য়েক আগে সুন্দর বাগনটি পরিদর্শন করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনিক কর্তারা। প্রায় ছ’বিঘার ওই মনরোম প্রাকৃতিক পরিবেশ দৃষ্টি আকর্ষন করে জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের। সম্প্রতি ওই প্রকল্পের জমিকে ঘিরে বিতর্কের দানা বেঁধেছে। অভিযোগ
বনদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া কয়েক বিঘা জমি তার দিয়ে পাকা ঘেরা হয়েছে। বেআইনীভাবে ঢালাই রাস্তা করা হয়েছে।

বনদফতরের মুচিপাড়া রেঞ্জার প্রণব কুমার দাস জানান,” বনদফতরের জমিতে শুধুমাত্র বনদফতরই কাজ করতে পারে। পঞ্চায়েত থেকে কাজ করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি না নিয়ে ওই প্রকল্প করে পঞ্চায়েত।” যদিও গোপালপুর পঞ্চায়েত প্রধান জয়জিৎ মন্ডল বলেন,” বনদফতরের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে পড়েছিল। জমিটি বেদখল হয়ে যাচ্ছিল। প্রকল্পের জন্য জানানো হয়েছিল। দুস্কৃতীদের আঁখড়া তৈরী হয়েছিল জমিটি। তাই শিল্পাতালুক লাগোয়া পরিত্যাক্ত ওই জমিতে উদ্যান তৈরী করা হয়েছে। তাতে যেমন জবরদখল ঠেকানো গেছে। তেমনই প্রাকৃতিক সৌন্দাযায়ন, এলাকাবাসীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ”

তিনি আরও বলেন,”এরকম বনদফতরের ফাঁকা জমি কয়েক’শ একর পড়ে রয়েছে। শিল্পতালুকের পাশে ওইসব জমিতেও বনসৃজন দরকার। অযথা এই জমিটি ঘিরে এখন নতুন করে আপত্তি কিসের বুঝতে পারছি না। এরকম প্রকল্পটি জেলার মডেল হওয়া উচিত।” প্রশ্ন এখানেই।

উল্লেখ্য, গোঁসাইডাঙা এলাকার বাসিন্দা কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বুড়ি টুডুর। কয়েকদিন আগে ব্লকে আদিবাসী দিবস পালন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন পত্রে নাম না থাকায় প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। বছর চারেক আগে প্রকল্পটি শুরুর সময় ওই এলাকার তৎকালীন ওই পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। আর এখন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।

বুড়ি টুডু জানান,” প্রকল্পটি চার বছর আগে শুরু হয়েছে। ৩০ টি পরিবারের কর্মসংস্থান জড়িয়ে। প্রকল্পটি জেেলা প্রশাানিক কর্তা ছাড়াও বাঁকুড়া ও বীরভুম জেলার নজর কেড়েছে। এরকম একটি প্রকল্প এত বছর ধরে কোন আপত্তি, অভিযোগ উঠল না। এখন বিষয়টি নতুন করে আপত্তি, অভিযোগ কেন উঠছে?”

কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভুমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ কাঞ্চন লায়েক জানান,” ১৯৮৮ সালের ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বন বিভাগের জমিতে বন দফতর ছাড়া অন্য কোন সংস্থা কাজ করতে পারে না। কোন রকম কংক্রীটের কাজ আইন বিরুদ্ধ। এধরনের আইন বিরুদ্ধ কাজ সমর্থন করি না। আইন আইনের পথে চলবে।”

Related Articles

Back to top button
Close