fbpx
কলকাতাহেডলাইন

হাসপাতালের আধিক্যই দক্ষিণ-পূর্ব শহরতলিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব শহরতলিতে হাসপাতাল ও নার্সিং হোম বেশি থাকার কারণে সেখানে কোনো সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন কলকাতার নোডাল অফিসার তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলকাতা পুরসভায় পুরকমিশনার, পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, বরো কো অর্ডিনেটর এবং ওয়ার্ড কো অর্ডিনেটর দের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক করেন আলাপন বাবু।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমীক্ষার পর দেখা গিয়েছে উত্তর কলকাতার তুলনায় দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ পূর্ব কলকাতায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশি হারে। এর কারণ জানতে চাইলে আলাপন বাবু জানান, “দক্ষিণ-পূর্ব শহরতলীতে বাইপাসের ধারে সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো সেখানে হাসপাতালের আধিক্য। মুকুন্দপুর, অজয় নগর এলাকায় বাইপাসের ধারে অনেক হাসপাতাল রয়েছে সেই কারণে সেখানে রোগী, তাদের পরিজন, স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী এদের অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন।” পাশাপাশি এদিনের বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা পুলিশ ও ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়টিকে জোরালো করা। প্রশাসনের তরফে সমন্বয় সাধন করতে যাতে কোনরকম ফাঁক না থাকে সেই বিষয়টি নিয়েও এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান আলাপনবাবু।
একই সঙ্গে এলাকার নাগরিকদের কারোর চিকিৎসা পেতে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা অথবা কোন নাগরিকের এম্বুলেন্স দরকার কার হাসপাতালে যেতে হবে এইসব বিষয়ে ওয়ার্ড কো অর্ডিনেটরদের সতর্ক দৃষ্টি দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। মূলত স্থানীয় থানার সঙ্গে ওয়ার্ড কো অর্ডিনেটরদের যোগাযোগ এবং সমন্বয় যাতে আরো দৃঢ় হয় সেই উদ্দেশ্যেই এদিনের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে পুরপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, “প্রত্যেক ওয়ার্ডে কো অর্ডিনেটরদের নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকায় করনা আক্রান্ত রোগী বা মৃত দেহ ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে রয়েছে এদিকে ওয়ার্ডে কো অর্ডিনেটর তা জানে না এমনটা যেন না হয়।” পাশাপাশি প্রয়োজন পড়লে স্থানীয় ওসির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে বলে ওয়ার্ড অর্ডিনেটর দের জানানো হয়েছে।
এদিকে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা মৃতদেহ পড়ে থাকলেও কোন ডাক্তার করো না সংক্রমণের ভয় সার্টিফিকেট দিতে রাজি হচ্ছেনা। এই ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অর্ডিনেটর দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকলে দক্ষিণ কলকাতার ক্ষেত্রে ফিরহাদ হাকিম এবং উত্তর কলকাতার ক্ষেত্রে তা অতীন ঘোষ কে জানাতে। এরপরে প্রয়োজন বুঝে সে ক্ষেত্রে পুর কর্তৃপক্ষ ওই মৃত দেহকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে তার পোস্টমর্টেম করবে। এ পড়ে মৃত্যুর কারণ নির্বাচন করে সেই মতো ওই দিয়ে মৃতদেহের সৎকার করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close