fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

টাকা নিয়ে পড়ুয়াদের পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি, অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল কলেজ

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে পরীক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগে অভিযুক্ত শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যাপক অমিতাভ কাঞ্জিলালের নাম ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা সহ একাধিক সিদ্ধান্ত নিল শিলিগুড়ি কলেজ কতৃপক্ষ। এ ব্যাপারে অধ্যাপক অমিতাভ কাঞ্জিলাল বলেন, “আমার কোনো বিরূপ বক্তব্য নেই। যেখানে যা প্রমান করার করে আমি আমার নিজের জায়গায় ফিরে আসব।”

ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপ ও ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিষয় নিয়ে সোমবার শিলিগুড়ি কলেজে পরিচালন সমিতির একটি বৈঠক হয়। দীর্ঘ দুই ঘন্টা ধরে বৈঠকে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়ন্ত কর জানান, এ ব্যাপারে সাত সদস্যের একটি কমিটি তৈরী হল যার চেয়ারম্যান ডক্টর ঝিনুক দাশগুপ্ত। এছাড়া আরও ছয়জন সদস্য রয়েছেন তারা হলেন, ডক্টর অজিত দে, ডক্টর অনিকেত ছেত্রী, ডক্টর আশিষ তরফদার, ডক্টর স্বপন কুমার ঘোষ টীচার কাউন্সিলের সেক্রেটারি।

জিনিয়া মিত্র ইউনিভারসিটি নমিনি, ডক্টর সুপ্রকাশ রায় প্রাইমারি টিচার কাউন্সিলের সেক্রেটারি। পুজোর আগে কমিটি সব দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হবে কিনা। তবে আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একজন আইনজীবির মতামত নিয়ে তাকে শোকজ করা হবে। পাশাপাশি শিলিগুড়ি কলেজের তরফেও থানায় এফআইআর করা হবে। সেই সঙ্গে শুধু পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নয় তাকে কলেজের সমস্ত কার্যপ্রণালী থেকেই এদিন থেকে অব্যহতি দেওয়া হল যতদিন না তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হচ্ছেন।

জয়ন্ত কর বলেন, ” বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফ এগজামিনেশন থেকে গাইডলাইন এসেছে সেই গাইডলাইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বিগত ৭১ বছর ধরে এই কলেজ। এর আগে এই কলেজের নামে কখনও কোনো অভিযোগ আসে নি। এই প্রথম কলেজের গায়ে কালিমালিপ্ত হল। কমিটির তদন্তের কাজে ব্যঘাত ঘটতে পারে তাই তাকে কলেজের সমস্ত কাজ থেকে অব্যহতি দেওয়া হল।” তবে অভিয়ুক্ত অধ্যাপককে এখনই সাসপেন্ড করা হবে না বলে জানান জয়ন্তবাবু । কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অমিতাভ কাঞ্জিলাল বলেন, “উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিলিগুড়ি কলেজ সঙ্গতি রেখে যা করছে পুরোটাই দুটো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি স্বচ্ছতার ব্যাপার। দুটোই আমার প্রতিষ্ঠান। আমিও দুটো প্রতিষ্ঠানেরই অংশ। ফলে তার সম্মানের জায়গাটা প্রতিষ্ঠিত থাকুক এটাই আমি চাইব। বাকি যেখানে যা প্রমাণ করার প্রমাণ করে আমি আমার নিজের জায়গায় ফিরে আসব।”

Related Articles

Back to top button
Close