fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বগুলার মাটিতে আপেল চাষ করে রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে প্রসেনজিৎ

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস : শুধু কাশ্মীর কেন? বাংলার মাটিতে ও আপেল চাষ সম্ভব, ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে ফেলেছে বগুলা কুঠিপাড়ার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস।তার এই সাফল্যে গর্বিত বগুলা, রাতারাতি সেলিব্রিটি এখন প্রসেনজিৎ। বাড়ি প্রসেনজিতের বগুলা কুঠি পাড়ায় হলেও আপেলের বাগান কিন্তু কৌতুক নগরে। নদীয়া জেলার হাঁসখালি থানার অন্তর্গত বগুলা ১নং গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অধীন ছোট্ট একটি গ্ৰাম কৌতুক নগর। বগুলা রেলওয়ে স্টেশন কিংবা বাসস্ট্যান্ড থেকে অটো কিংবা টোটো গাড়িতে কৌতুক নগর আপেল বাগান পৌঁছাতে সময় লাগে ২০ মিনিট। অত্যন্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান প্রসেনজিৎ।বাবা যতীন্দ্র নাথ বিশ্বাস নেভিতে চাকরি করতেন,এখন তিনি প্রয়াত,মা অনিমা বিশ্বাস গৃহকর্ত্রী। সংসারে লোকসংখ্যা প্রসেনজিৎ সহ বোন এবং মা অর্থাৎ ৩ জন। প্রসেনজিৎ এর বয়স ৩০ বৎসর, পড়াশোনা উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ।কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পিত প্রসেনজিৎ এর লেখাপড়ায় আগ্ৰহ থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতায় বেশি দূর এগনো সম্ভব হয় নি। উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৯.৪৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েও আর পড়াশোনা হয় নি।ছোট বেলা থেকেই একাকী থাকতে অভ্যস্থ হলেও ভীষন ভ্রমণ পিপাসু।

দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে অভ্যস্ত প্রসেনজিৎ, আজ থেকে দেড় বছর আগে বেড়াতে গিয়েছিল মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে। নিজের ই পিসতুতো দাদা কৃষি বিশেষজ্ঞ গৌতম মন্ডল, কর্ম সুত্রে পরিবারবর্গ নিয়ে ওখানে থাকেন। ওখানেই দাদার বাসায় বিল্ডিংয়ের ছাদে দাদা-বৌদির সন্মিলিত প্রয়াসে টবে আপেল সহ নানা ধরনের ফলের চাষ সহ পরিচর্যা দেখে মুগ্ধ প্রসেনজিৎ এবং ঐ মুহুর্ত থেকেই গঠনমূলক কিছু একটা করবার ভাবনা চিন্তা শুরু। এর পর ওখানেই দাদা বৌদির উদ্দেশ্যে বার্তা, “ইউরেকা” এবং সম্ভব। আর পেছনে তাকানো নয়, দ্রুত মনস্থির, দাদার সঙ্গে শলাপরামর্শ, সিদ্ধান্ত,ব্লুপ্রিন্ট তৈরি এবং কাজে নেমে পড়া।আর অপেক্ষা করেনি প্রসেনজিৎ। ওখান থেকে তড়িঘড়ি বগুলার কুঠিপাড়া বাড়িতে ফিরে এসেই পার্শ্ববর্তী দু’টি পাড়া বাদ দিয়ে কিছুটা এগিয়ে কৌতুক নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রম করে গ্ৰামের শেষ প্রান্তে নিজের ই পৈত্রিক চাষযোগ্য ১০ কাঠা জমি বেছে নেওয়া এবং উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্ৰহন। মাঠের এই ১০ কাঠা জমির মধ্যে অর্ধেক জমিতে ৪০ টি আপেলের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে কর্মাভিযান শুরু।এর মধ্যে চার টি চারা কে বাঁচানো সম্ভব না হলেও গাছ লাগানোর ১৩ মাসের ব্যবধানে ৩৬ টি গাছেই ফলন এসেছে অর্থাৎ আপেল ধরেছে। ব্যাপক ভাবে গাছ গুলিতে থোকা থোকা আপেল শোভা বর্ধন করছে।ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায়, স্বভাবতই খুশি প্রসেনজিৎ।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডে ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত জনগণের কোভিড টেস্টের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

পরিশ্রম স্বার্থক হওয়ায় খুশির পরিবেশ নিজের বাড়ি সহ এলাকা জুড়ে।আপেলের আয়তন,আকার, স্বাদ্ ,গাছের গঠন কোন কিছুতেই বৈসাদৃশ্যের কোন লক্ষণই নেই। স্বাদে,আকার,আয়তনে কাশ্মীরের আপেলের সঙ্গে তুলনা করলে, কোন পার্থক্য বোঝার ই উপায় নেই যে,এই আপেল বাংলার নাকি কাশ্মীরের। প্রসেনজিতের সাফল্যে গর্বিত বগুলা সহ নদীয়াবাসী, সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানো এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।খ্যাতি, পরিধি, মিডিয়ার আনাগোনায় এখন রাতারাতি ভি,আই,পি আপেল চাষী প্রসেনজিৎ। চাষের পদ্ধতি, পরিচর্যা, কি ধরনের জমিতে চাষ সম্ভব,নতুন কেউ এই ধরনের চাষে আগ্ৰহী হলে কি ভাবে এগনো উচিৎ,চারা কোথায় পাওয়া যাবে এই ধরনের একাধিক প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়েছিলাম প্রসেনজিতের আপেল বাগানে। কথা হল দীর্ঘক্ষণ।

একান্তে, আলাপচারিতায় উঠে এলো নানা বিষয়, নির্যাস টুকু তুলে ধরলাম:

১). চাষের পদ্ধতি-বেলে,এঁটেল,দোয়াশ যে কোন মাটিতেই এবং সব রকম আবহাওয়ায় এই চাষ করা সম্ভব।২)মাটির পরিচর্যা-প্রথমে মাটি চাষ করে ঝুড়ি ঝুড়ি করে নিতে হবে তার পর গোবর বা কম্পোজ সার মিশিয়ে চারা বৃদ্ধির উপযোগী মাটি তৈরি করতে হবে।
৩).কোন্ সময়ে চারা লাগানো উচিৎ-সব চাইতে উপযুক্ত সময় ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস,তবে বর্ষার সিজনেও এই চাষ শুরু করা যেতে পারে।
৪)চারা কোথায় পাওয়া যাবে এবং কি রকম দাম পড়বে?-চারা আমিই সরবরাহ করতে পারবো। আমার বাগানে তিন ধরনের জাত আছে। আমি এই তিন’জাতের চারা ই এনেছিলাম।এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, আমার দাদা যিনি বম্বে থাকেন এবং এই ক্ষেত্রে আমার প্রেরণা গৌতম মন্ডল। দাদা ই আমাকে প্লেন মারফৎ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইজরায়েল থেকে দুই ধরনের জাতের(১)অ্যান্না (২) মাইকেল এবং আমেরিকার একটিই জাত (১) গোল্ডেন রোমবেট এনে দিয়ে ছিল।এই দুই ধরনের জাত ই এখন প্রসেনজিতের কাছে পাওয়া যাবে। দাম পড়বে এক একটি চারা সাতশো থেকে সাড়ে সাতশো টাকা।
৫).যে কেউ কি এই চাষ করতে পারে? হ্যা যে কেউ ই এই চাষ করতে পারেন। শিক্ষিত বেকার যুবকরা ও এগিয়ে আসতে পারে এই পেশায়, আমি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।জায়গার পরিমাণ অনুযায়ী ভাবতে হবে, প্রয়োজনে বাড়ির ছাদেও এই চাষ করা যেতে পারে, গৃহবধূরা অবসর সময়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবলে, বাড়তি ইনকামের জায়গা রয়েছে এখান থেকে। আমার কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
৭). প্রাথমিক ভাবে কতটাকা নিয়ে এই চাষে নামতে হবে? বিষয়টি নির্ভর করবে কতটা জায়গা নিয়ে শুরু করতে চান তার উপর।তবে সাধ্যের মধ্যেই সাধ পূরণ হবে,এই টুকু বলতে পারি।

Related Articles

Back to top button
Close