fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ক্ষতিপূরণের পাওনা আদায়ের দাবিতে পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে বিক্ষোভ ক্ষতিগ্রস্থদের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: আমফানে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণের অর্থ পাচ্ছেন না। সেই অর্থ লুঠের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবার সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন নদীয়া জেলার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ চঞ্চল দেবনাথ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে দল।

যদিও ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ অব্যাহত। এদিন নদীয়া জেলার নগরুখড়া এলাকার ফতেপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ দেখান ক্ষতিগ্রস্তরা। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান আট থেকে আশি বাসিন্দারা।তাঁদের অভিযোগ, ঘুষ দিলে তবেই মিলবে ক্ষতিপূরণের টাকা। শুধু তাই নয়, আমফান ঘূর্ণিঝড়ে যাঁদের বাড়ি ক্ষতি হয়েছে তাঁদের পরিবর্তে সেই সরকারি ক্ষতিপূরণ জমা পড়ছে তৃণমূলের একাংশের অ্যাকাউন্টে। পাশাপাশি হরিনঘাটা ব্লকের ফতেপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রাজকুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে উঠছে অসহযোগিতার অভিযোগ। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজকুমারবাবু। তিনি বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সরকারি ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থরাই।

অন্যদিকে, হরিণঘাটা বিডিও অফিসেও দেখা গেল একই চিত্র। ক্ষতিপূরণের ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায় সেখানে। তাঁদের অভিযোগ, সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁরা। কিন্তু ফর্ম জমা নিচ্ছেন না আধিকারিকরা। এই অভিযোগে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ক্ষতিগ্রস্থরা। যদিও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর হরিণঘাটার বিডিও কৃষ্ণগোপাল ধাড়ার উদ্দ্যোগে ফর্ম জমা নেন অধিকারীকরা। এই বিষয়ে কৃষ্ণগোপালবাবু বলেন, ক্ষতিগ্রস্থরাই টাকা পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থরা ছাড়া অন্য কেউ টাকা পেয়েছেন এই অভিযোগ আপাতত আমার কাছে নেই। ক্ষতিগ্রস্থদের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। ফলে ক্ষতিপূরণের টাকা দেরিতে পাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনার স্মরণ সভায় শাসক দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার লকেট

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আমফান ঘূর্ণিঝড়ে যাঁদের ক্ষতি হয়েছে তাঁরা ২০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান পাবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই লম্বা লাইন দেখা যায় পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে। কিন্তু অনুদানের সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর ফলে সবুজ শিবিরের ভাবমূর্তি অনেকটাই নষ্ট হয় বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এবার সেই ভাবমূর্তিতে স্বচ্ছতা আনতে কড়া হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন শাসক দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা। বিরোধীদের প্রশ্ন তৃণমূল নেতাদের এই স্বচ্ছতার প্রক্রিয়া আদৌ কি মেনে নেবেন নিচু তোলার কর্মীরা?

Related Articles

Back to top button
Close