fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোচবিহারে ডিজিটাল রেশন কার্ডের দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ৫

জেলা প্রতিনিধি, কোচবিহার: রেশন কার্ডের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানে বসেছিল কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের গ্রামবাসীরা। পুলিশ দিয়ে তাদের জোর করে উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, তাদের জন্য আলাদাভাবে রেশন কার্ড সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কাউন্টার করার প্রস্তাব দিয়েছিল খাদ্য দফতর। শুধু তাই নয় তাদের কাছে দুদিনের সময়ও চেয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু তারপরেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রামবাসীরা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতর ঘেরাও করে রাখলে তৎপর হয় কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

সোমবার সকাল বেলা দশটার সময় এলাকার প্রায় ৪০০ গ্রামবাসী সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর দফতরে উপস্থিত হন। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। লকডাউনের বাজারে তারা কোন রকম ভাবেই রেশন সামগ্রী পাচ্ছেন না। তাদের আরও অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার চাল বরাদ্দ করলেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তা বন্টন করা হচ্ছে না। চালের দাবিতে ও খাদ্যের দাবিতে এদিন সকাল থেকেই তারা ধর্নায় বসেন। সোশ্যাল ডিসটেন্স বা সামাজিক দূরত্ব রেখেই তারা ধর্না চালিয়ে যান। কিন্তু প্রশাসনিক কোনও আলোচনায় বা সিদ্ধান্তে তারা মত প্রকাশ করেনি। তাদের একটাই দাবি ছিল সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতর থেকে অবিলম্বে তাদের চাল দিতে হবে।

তারপরেই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সৌমজিৎ রায়ের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযোগ খাদ্যের দাবিতে আসা গ্রামবাসীদের পুলিশ লাঠিপেটা করে তুলে দেয়। ঘটনায় পাঁচজন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, লকডাউন লঙ্ঘন করে জমায়েত এবং সেই সঙ্গে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিপদে চালনা করা। আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা রেশন কার্ডে ও পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী জন্য আন্দোলন করছিল তাই তাদের অসাংবিধানিকভাবে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কোচবিহার এক নাম্বার ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক গঙ্গা ছেত্রী জানান, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। তাদেরকে দুদিনের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বণ্টনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। খাদ্য দফতরের তরফে একটি ক্যাম্প তৈরি করে যে গ্রামবাসীরা ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন তাদের কূপনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও তারা জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বাধ্য হয়ে আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানালে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

প্রসঙ্গত, রেশন কার্ড অনুসারে খাদ্য বন্টন করতে গিয়ে নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন কোচবিহার জেলা খাদ্য বন্টন দফতর। ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য একশ্রেণীর মানুষ মানুষ কোনওদিনই আবেদন জানাননি, আজকে এই দুর্দিনে হঠাৎ করেই তাদের রেশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের এই প্রয়োজনীয়তার সুযোগ নিয়ে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। আমরা সবাইকেই রেশন পৌঁছে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর কিন্তু নির্দেশ না থাকলে আমাদের কিছু করার নেই। ইতিমধ্যে কোচবিহার জেলায় লক্ষের বেশি মানুষের হাতে আমরা রেশন কূপন তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। যারা এখনও রেশন কার্ড পাননি তাদের জন্য খাদ্য দফতর খোলা রয়েছে যেকোনও ধরনের সমস্যা হলে খাদ্য দফতরে তারা যোগাযোগ করতে পারেন।

এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি র পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ খোকন মিয়া মন্তব্য করে বলেন, বিজেপি নেতৃত্বরা এই গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে এখানে অবস্থানে নিয়ে এসেছে।যাদের বাড়িতে রেশন কার্ড নেই কিংবা যারা খাদ্য পাচ্ছেন না তাদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই চালডাল নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আমরা পৌঁছে দিয়েছি। ব্লক দফতর থেকেও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। যারা আজকে আন্দোলন করছিলেন তাদের বেশিরভাগের বাড়িতেই আমি নিজে গিয়ে খাবার দিয়ে এসেছি।এরপরেও তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালনা করছে বিজেপি। মানুষের এই বিপদের দিনে নোংরা রাজনীতি কোনও মতেই মেনে নেওয়া হবে না।

Related Articles

Back to top button
Close