fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য – দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানি জারি করলো বর্ধমান আদালত

 প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান: পুলিশে বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার পুলিশ দিলীপ ঘোষকে পলাতক দেখিয়ে আগেই চার্জশিট পেশ করে । তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য শুক্রবার বর্ধমান আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করলেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট । আদালতের এই নির্দেশ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে ।

ইতিপূর্বে জেলার শক্তিগড়ে পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়া ও কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উপরে হামলা চালানো সংক্রান্ত দু’টি মামলা
দায়ের হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে। পুলিশ আদালতে ওইসব মামলারও চার্জশিট পেশ করে দিয়েছে । বিচারের জন্য সেই দু’টি মামলাই যদিও উত্তর ২৪ পরগণার বারাসতের বিশেষ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর রায়না থানার সেহারাবাজারে সি-কে ইনস্টিটিউশন মাঠে বিজেপির সভা হয় । অভিযোগ ওই সভায় নিজের বক্তব্যে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “তাঁবেদারি না করলে, টাকা না দিলে পুলিশের চাকরি মেলেনা। প্রমোশনের জন্যও পুলিশকে টাকা দিতে হয়। এসপি থেকে ওসি পর্যন্ত সবাইকে টাকা তুলতে হয়। সেই টাকার বান্ডিল কালীঘাট পর্যন্ত যায়। অভিযোগ এই ধরণের আরও কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ ।”

রাজ্য বিজেপি সভাপতির এইসব মন্তব্যের বিষয়ে সেহারাবাজার ফাঁড়ির এক পুলিশ কর্মী অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরণের মন্তব্যের ফলে নষ্ট হয়েছে পুলিশের ভাবমূির্ত । শুধু তাই নয় , কটূক্তি ও নোংরা ভাষা প্রয়োগের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের সম্পের্ক ঘৃণা তৈরি হয়েছে। পুলিশ কর্মীর দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ৫০৪ ও ৫০৫(১) ধারায় মামলা রুজু হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান আদালতে চার্জশিট পেশ করেন রায়নার সেহারাবাজার ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ উত্তাল সামন্ত। এদিন তদন্তকারী অফিসার বর্ধমান আদালতে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারির আবেদন জানান। সিজেএম সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

গ্রেফতারির পরওয়ানা জারি হওয়া প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “প্রতিদিনই আমাদের বিরুদ্ধে কোথাও না কোথাও মামলা হচ্ছে। পুলিশের লজ্জা হওয়া উচিত।আমি যা বলেছিলাম তা তাঁদের ভালোর জন্যই বলেছিলাম। অথচ, আমার বিরুদ্ধেই মামলা করল।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি আমার জানা নেই। আইনজীবী বিষয়টি দেখবেন। আদালতে জামিন নেব।”

 

Related Articles

Back to top button
Close