fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘অনির্দিষ্টকাল পাবলিক প্লেস দখলে রাখা যায় না’,শাহিনবাগ নিয়ে শীর্ষ আদালত

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি জায়গা অনির্দিষ্টকালের জন্য দখল করা যায় না, দিল্লির শাহিন বাগের  প্রতিবাদ সংক্রান্ত একটি মামলায় কথা বলল সুপ্রিম কোর্ট । নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে শাহিন বাগে রাস্তা আটকে চলেছিল প্রতিবাদ। কয়েকমাস রাস্তা আটকে ওই প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেই আবেদনের শুনানিতে আজ শীর্ষ আদালত এই মন্তব্য করেছে। আদালতের আরও বক্তব্য, “মতবিরোধ ও গণতন্ত্র একসঙ্গ চলে।” শীর্ষ আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের বিক্ষোভ গ্রহণযোগ্য নয়।

শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, বিক্ষোভের নামে সরকারি জায়গা বা সরকারি রাস্তা এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য দখল করে রাখা যায় না। বিক্ষোভ দেখানো নাগরিকদের অধিকার, কিন্তু সেজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন করা সম্ভব নয়।বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কলের নেতৃত্বধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার শাহীন বাগ নিয়ে রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছে, মতবিরোধ ও গণতন্ত্র হাত ধরাধরি করে চলবে। তবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অবশ্যই দেখাতে হবে নির্দিষ্ট জায়গায়। আদালতের কথায়, ‘বিক্ষোভ দেখানোর জন্য পাবলিক প্লেস আটকে রাখাটা গ্রহণযোগ্য নয়। পাবলিক প্লেস থেকে এ ধরনের জমায়েত সরাতে ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।’

আবেদনকারী দিল্লির শাহিনবাগ অঞ্চলটিতে রাস্তা পরিষ্কার করতে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছেন। তিনি তাঁর অভিযোগে বলেছিলেন, দিল্লি রাজধানী এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অংশের যোগাযোগের মূল রাস্তাটিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই প্রতিবাদের সময়। যার জেরে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়।দেশের শীর্ষ আদালত এদিন তার রায়ে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ সত্যিই ব্যর্থ হয়েছিল। আদালতের রায় সত্ত্বেও তাঁরা রাস্তা থেকে অবস্থায় সরিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করতে পারেনি। এতে বলা হয়েছে যে প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষকে বাধাহীন রাখতে হবে এবং তারা আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না বা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে খালি আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে না।

আরও পড়ুন: নির্ভয়ার ধর্ষকদের আইনজীবীই সওয়াল করবেন হাথরসের অভিযুক্তদের হয়ে

গত বছর ১২ ডিসেম্বর পাশ হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। এর আগে থেকেই এই আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ-আন্দোলন। আইন পাশ হওয়ার সেই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। আর সেই আন্দোলনের উপকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল দিল্লির শাহীন বাগ। ১৫ ডিসেম্বর থেকে শাহীন বাগে অবস্থান করে শুরু হয় বিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভ চলে টানা ৩ মাস। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দীর্ঘ সময় ধরে দিল্লির শাহীন বাগে ধর্না চলছিল। এতদিন ধরে দিল্লির সঙ্গে নয়ডার সংযোগকারী রাস্তা আটকে রাখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নন্দ কিশোর গর্গ এবং অমিত সাহানি। দুই প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে, সাধনা রামাচন্দ্রন এবং প্রাক্তন চিফ ইনফরমেশন কমিশনার ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট। মধ্যস্থতাকারীরা উপস্থিত আন্দোলনকারীদের বলেছিলেন, ‘আপনাদের আন্দোলনের অধিকার সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিয়েছে। কিন্তু আপনাদেরও অন্যদের অধিকারের কথা মাথায় রাখতে হবে।’

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close