fbpx
আন্তর্জাতিককলকাতাবিনোদনহেডলাইন

পুজোর টানে নাটক……

মনীষা ভট্টাচার্য : বাঙালির ঐতিহ্য তার শিল্প-সংস্কৃতি।  সেই ঐতিহ্যের অন্যতম আঙ্গিক নাটক। যাত্রা-নাটক-সিনেমা – একই কয়েনের এপিঠ ওপিঠ মনে হলেও, প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্র। সময়ের সঙ্গে  বাংলার জনমানসে নাটক জায়গা করে নিতে শুরু করে। শুধু মৌলিক নাটক নয়, জন্ম হয় অনেক নাট্যব্যক্তিত্বেরও। ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকেই প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে ঊঠে আসে নাটক। ক্লাসিক চরিত্র থেকে রাজনৈতিক পালা বদল সবই নাটকের বিষয় হয়েছে, হচ্ছে, হবেও।  বর্তমান প্রেক্ষাপটে থিয়েটারের কর্মীদের অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে কলাকুশলীদের। দীর্ঘ সময় ধরে প্রযোজনা বন্ধ থাকায়, কল শো না থাকায়, মঞ্চসজ্জা, সাজসজ্জা, পোশাক, আলো প্রমুখ শিল্পীদের আর্থিক সাহায্যের কথা  চিন্তা করে কলকাতার ‘সৌভ্রাতিত্ব’ এবং উত্তর আমেরিকার ‘এবং থিয়েট্রিক্স’-এর যৌথ উদ্যোগে অন লাইনে দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হল ‘পুজোর টানে নাটক’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।

ফেরা নাটকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও দেবশংকর হালদার।

গত শনি ও রবি (২৬-২৭ সেপ্টেম্বর) এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলা নাটকের দিকপালেরা। এই মুহূর্তে কলকাতার নাট্যজগতে অন্যতম নাম চেতনা নাট্যগোষ্ঠী। ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ অনুষ্ঠানে পাওয়া গেল চেতনার তিন প্রজন্মকে। অরুণ মুখোপাধ্যায়, সুমন মুখোপাধ্যায়, সুজন মুখোপাধ্যায়ের গল্পে ঊঠে এল অনেক পুরনো স্মৃতি, বিদেশে নাটক করার অভিজ্ঞতা। দেখা গেল  চেতনা প্রযোজিত ‘জগন্নাথ’, ‘ডন, তাঁকে ভালো লাগে’ প্রভৃতি নাটকের অংশ বিশেষ।  তিন জনের কণ্ঠে শোনা গেল মেরিবাবার গান, জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সুরে কবীরের গান, এবং একদম শেষে অরুণবাবুর সুর করা জীবনানন্দের ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ কবিতার গান।

স্মৃতি রোমন্থন করলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দেবশংকর হালদার ও পৌলমী  বসু। একটা সময় ছিল যখন পুজোর সময় তিনদিনই নাটক হত এবং সেই সময় কেমন মজা হত সেই গল্প করলেন সৌমিত্রবাবু। তাঁকে যোগ্যসঙ্গত করলেন কন্যা পৌলমী ও দেবশংকর হালদার। উঠে এল নাটকের গান, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, শিশিরকুমার ভাদুড়ী, কম্বিনেশন নাইট যাত্রাপালার প্রসঙ্গও।  ছিল সায়কের কর্ণধার মেঘনাদ ভট্টাচার্যের অসাধারণ অভিনয়ের ছোট্ট একটি অংশ। রঙরূপের সীমা মুখোপাধ্যায় ও বিমল চক্রবর্তী অভিনীত ‘তখন বিকেল’ নাটক ছিল শেষপাতে অমৃতের মতো।

ডন তাঁকে ভালো লাগের মহড়া।

এছাড়া স্বপ্নসন্ধানীর কৌশিক সেন, রেশমী সেন ও ঋদ্ধি সেনের উপস্থাপনায় ছিল বুদ্ধদেব বসুর ‘প্রথম পার্থ’-র অংশবিশেষ।  উষ্ণিকের শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও ঈশিতা মুখোপাধ্যায়ের উপস্থাপনায় শ্রুতিনাটক ‘অলৌকিক দাম্পত্য’ এবং সোহিনী সেনগুপ্তের কণ্ঠে মায়া অ্যাঞ্জলো-র কবিতা ছিল উপভোগ্য।  ‘নাটক থেকে নাট্য’ এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন   নাট্যপরিচালক – দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আশিস গোস্বামী।  শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন নান্দীকারের রুদ্রপ্রসাদ ও স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত।

আরও পড়ুন:হাথরাস কাণ্ডে যোগী সরকারকে তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তখন বিকেল নাটকে সীমা মুখোপাধ্যায় ও বিমল চক্রবর্তী।

উত্তর আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলের নাট্যদল ‘এবং থিয়েট্রিক্স’এর অন্যতম সদস্য যশমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে  বলেন, ‘বাংলা থিয়েটার আমাদের ছেলেবেলা, আমাদের অনুপ্রেরণা’। কর্মসূত্রে বিদেশে এসেও নাটক জীবনের বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে। এই দুঃসময়ে পুজোর আগে নাট্যকর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতেই তাদের এই উদ্যোগ।  তারা এই উদ্যোগে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা তুলতে পেরেছেন যা পৌঁছে যাবে সকল নাট্যকর্মীর হাতে। পৃথিবীর এই গভীর অসুখে পৃথিবীর কোণে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির এই ভাবনাকে কুর্ণিশ জানাই।

 

Related Articles

Back to top button
Close