fbpx
অফবিটকলকাতালাইফস্টাইলহেডলাইন

পুজোর বাজারের খোঁজ খবর…..

মনীষা ভট্টাচার্য: শুভ মহালয়া পেরিয়ে গেছে, কিন্তু মহালয়ার পর থেকে পঞ্চমদিনে দুর্গাপঞ্চমী আসেনি এবার।  কারণটা আমরা সবাই জানি। আশ্বিন মাস মলমাস। তাই এবার মহালয়ার ৩৫দিন বাদে পুজো।  সেই হিসাবে আর  মাত্র একমাস বাকি। এমতাবস্থায় শহর কলকাতার পুজোর বাজারের খোঁজ নেওয়া যাক।

পথ চলতে গড়িয়াহাট অঞ্চলে যেটুকু চোখ যায় তাতে দোকানি তার পসরা সাজিয়ে বসেছে ঠিকই, কিন্তু ক্রেতার দেখা  নাইরে, ক্রেতার দেখা নাই। অনেক দোকানির বক্তব্য করোনার কারণে লোকজন বেরোচ্ছেন না।  বেশিরভাগই কিনছেন  অনলাইনে অর্ডার করে।  তবু যাঁদের সেই ব্যবস্থা নেই তাঁদের জন্যই দোকান খুলে বসেছি। ট্রেন চলছে না। মেট্রো চালু হওয়ার পর একটু মানুষজন তাও আসছেন। কেঊ বলছেন, করোনায়  অনেক মানুষেরই চাকরি নেই। তার ওপর আমফানেও ক্ষতি হয়েছে অনেক। করোনা যাওয়ার নাম  করছে না। লোকজনের হাতে টাকা নেই, তাছাড়া আতঙ্কও রয়েছে। তবে এবার পুজোর কোনও ফ্যাশন নেই। নতুন ডিজাইন তেমন ঊঠছে না। স্টক ক্লিয়ারেন্সে মন  দিয়েছেন বিক্রেতারা। চলছে ডিসকাউন্টের অফারও। উত্তরের চেহারাটা আবার আলাদা। সেখানে দোকান-পাট খোলা। কিছু ক্রেতা  রয়েছেন।  তবে সিংহভাগই ফাঁকা।  ঢুকলাম খাদি গ্রামোদ্যোগ ভবনে।  ক্রেতার সংখ্যা কম।  নানা রং উঁকি দিচ্ছে কাঁচের শেলফের ভেতর থেকে।

কথা হল কলেজস্ট্রিট আউটলেটের সাধারণ সম্পাদক শুভরঞ্জন বিশ্বাসের সঙ্গে।  তাঁর কথায়, ‘এ বছরের যে অবস্থা তা আমাদের কল্পনাতীত।  শুধু করোনা নয়।  আমফানেও কলেজস্ট্রিটের বইপাড়ার সঙ্গে আমাদের অবস্থাও খুব খারাপ হয়েছিল। তবে আমরা তো মূলত ম্যানুফ্যাকচারিং বেসড কাজ করি, তাই ওইভাবে পুজো বলে আমাদের কিছু নেই।  প্রতিনিয়ত নতুন ডিজাইন আসতে থাকে। তবে বর্তমান এই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মতো আমরাও ডিজিটালে এসেছি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে মানুষজন সাড়া দিচ্ছেন। সাড়া তাঁরাই দিচ্ছেন যাঁরা আমাদের রেগুলর কাস্টমার।

মেট্রোপলিটন সিটিতে  যতগুলি আঊলেট রয়েছে তাতে সবগুলিতেই গত ১৫-২০ দিন ধরে কিছু কাস্টমার আসছেন।  মফস্বলের দিকে কাস্টমারের সংখ্যা বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যেমন ভেবেছিলাম তার থেকে অবস্থাটা ভালো।  পুরো লকডাঊনে তাঁতীরা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে আবার তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। সুতরাং নতুনত্বের সঙ্গ স্টকেরও  ঘাটতি নেই।  আরেকটা কথা বলা দরকার। ডিজিটালি তখনই আপনি জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে পারবেন, যখন আপনি  প্রতিনিয়ত নতুন কালেকশন দিয়ে যেতে পারবেন। সেদিক থেকে আমাদের স্টক যথেষ্ট। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় মার্কেটিং ইজ আ সাইকোলজিকল থেরাপি।  দোকানে এসে শাড়ি দেখে,হাতে ছুঁয়ে, অনুভব করে কিনতে ভালোবাসেন মানুষরা যা অনলাইনে সম্ভব না।’

আরও পড়ুন:সূর্য নন্দীর লেখায় দাঁতন মোহনপুরের অকথিত স্বাধীনতা সংগ্রাম

এই মুহূর্তে কলকাতা শহরে ৭-৮টা আউটলেটই খোলা। খাদি গ্রামোদ্যোগের জিনিসের দাম কোনও পার্বণ উপলক্ষে বাড়ে বা কমা না। আর মেটিরিয়ালের দামের উপরেই মূলত নির্ভর করে জিনিসের দাম। তাই করোনা পরিস্থিতিতে দাম বাড়া বা কমার  কোনও ব্যাপার নেই।  দুর্গাপুজো নিয়ে বাঙালির ইমোশন তো আছেই। তাই সারা বছর ধরেই পুজোর কালেকশন চলতেই থাকে। এবছর পুজোর বাজার এখনও জমজমাট না হলেও আপনার প্রয়োজনটুকু মেটানোর দায়িত্ব নিয়ে সবাই তৈরি আছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close