fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজো শুরু, এখনও বেহাল দশা কৃষ্ণনগরের সাজশিল্পীদের

অভিষেক আচার্য, নদিয়া: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। সারা বছর ধরেই কোনও না কোনও দেবদেবীর পূজার্চনা হয়ে থাকে হিন্দুশাস্ত্র মতে। আর এই ধর্মীয় পূজার্চ্চনার সঙ্গে গ্রামবাংলায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা। তারই মধ্যে একটি প্রধান অঙ্গ হল দেবদেবীর মূর্তির সাজ শিল্প। দেবদেবীর মূর্তিকে পূর্ণাঙ্গ রূপে সুন্দর রূপদান করতে সোলার সাজ শিল্পের বহিঃপ্রকাশ বিশেষভাবে প্রাধান্য লাভ করে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে ভক্তবৃন্দ দের মনের মণিকোঠায়। কিন্তু এই বছর করোনা অতিমারী ও দীর্ঘ লকডাউনের প্রভাবে সেই শিল্প আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শোলা ও বিভিন্ন ধরনের রং-বেরংয়ের পুঁথি সহ একাধিক চমকপ্রদক সামগ্রী দিয়ে গড়ে তোলা হয় প্রতিমার সাজ। যা দেবদেবীর মূর্তিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে মানুষের কাছে।

প্রসঙ্গত, নদিয়ার কৃষ্ণনগর কুমারটুলির কুমোর পাড়ায় শিল্পীদের পাশাপাশি শোলার সাজ শিল্পীদের ও কদর রয়েছে সারা দুনিয়াব্যাপী। প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেবদেবীর প্রতিমার পাশাপাশি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের সৃষ্টি করা সোলার সাজ সরঞ্জাম দিয়ে প্রতিমা সুসজ্জিত করার পর তা শুধু দেশের মাটিতে ও নয় অনেক ক্ষেত্রে পারি দেয় সুদূর বিদেশে। কিন্তু এই বছর সেই শিল্পকলাকে কার্যত গ্রাস করেছে করোনা আতঙ্ক ও দীর্ঘ লকডাউন। কৃষ্ণনগরের প্রসিদ্ধ শোলার সাজ শিল্পী তারক মালাকার এই বিষয়ে যথেষ্ট আক্ষেপের সুরেই বললেন, করোনা বিপর্যয়ের ফলে বর্তমানে তারা প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এমনকী এখনও পর্যন্ত প্রাচীন এই শিল্পকলাকে রক্ষা করতে সরকারি দফতরে যোগাযোগ করা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কোনও রকম সরকারি সাহায্য পাননি তারা। তিনি আরও বলেন যে, হকাররা যদি সরকারের কাছ থেকে ভাতা পেয়ে থাকে তাহলে তারা শিল্পী হিসাবে কেন পাবেন না। তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত সরকার পক্ষের।

আরও পড়ুন:দুর্ঘটনার কবলে অর্জুন সিং এর কনভয়

প্রতিবছর দুর্গাপুজোয় কমপক্ষে ৫০টি বায়নানামা পান তারা কিন্তু এবছর সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০টি তে। বছরে এই একবার শুধুমাত্র দুর্গাপূজার সময় এতেই ব্যবসায় তারা লাভের মুখ দেখেন কিন্তু এবছর তা আর হয়ে উঠল না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি। এছাড়াও অন্যান্য বছরগুলোতে প্রতিমার সাজ সরঞ্জাম দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না তারা, সেই জায়গা থেকে এখনও পর্যন্ত দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তেও শুধুমাত্র সেই অর্থে তেমন কোনো কাজের বায়নানামা পাননি তিনি। যার কারণে যথেষ্ট প্রভাব পড়ছে তাদের রুটি-রোজগারের উপর। ভবিষ্যৎতে ভালো হতে পারে শুধুমাত্র এই ভাবনাতে যথেষ্ট দুশ্চিন্তার সঙ্গে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে বলেই জানান তারকবাবু।

Related Articles

Back to top button
Close