fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বড় ক্ষতির মুখে চাল কুমড়ো চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি, ময়নাগুড়ি: লকডাউনের ফলে বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছেন চাষিরা। বাজারে সেরকম দাম না মেলায় বিপাকে পড়েছেন ময়নাগুড়ির চাল কুমড়ো চাষিরা। এই অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। সঠিক দাম না পাওয়ার জন্যই এই করুণ অবস্থা বলে জানান ময়নাগুড়ির চাল কুমড়ো চাষিরা।

উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কৃষিকাজ করে ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করে দু’চার পয়সা রোজগার করে সংসার চালান। কিন্তূ করোনার থাবা যেন চাষিদের মুখের অন্ন ছিনিয়ে নিয়েছে। করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন থাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে আন্তঃরাজ্য ব্যবসা বাণিজ্য। যার ফলে জমিতে উৎপাদিত ফসল ভিন রাজ্যের পাইকার না আসায় সঠিক দাম মিলছে না চাষিদের। এই করুণ অবস্থার শিকার হয়েছেন ময়নাগুড়ির চাল কুমড়ো শ্রমিকরা।

ময়নাগুড়ির চাল কুমড়ো এই রাজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যেও বিক্রি হয়। দামও মেলে বেশ ভালো। কিন্তু লকডাউনের জেরে সমস্ত কিছুতেই যেন ভাটা পড়ে গিয়েছে। বাজারে সেভাবে দাম মিলছে না চাল কুমড়োর। একসময় যেখানে চাল কুমড়ো ১৫ থেকে ২০টাকা দরে বিক্রি হত সেখানে আজকের বাজারে ১থেকে ৪টাকার দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে চাল কুমড়ো চাষের সামান্য খরচ টুকুও আদায় হচ্ছে না চাষিদের।

এই বিষয়ে ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডার এলাকার এক চাল কুমড়ো চাষি দেবকান্ত রায় বলেন, ” বাজারের খুব খারাপ অবস্থা। দাম নেই চাল কুমড়োর ৩ টাকা ৪টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের। বিঘা প্রতি চাষে যে পরিমাণ খরচ, সেই খরচটুকুই উঠবে না এবছর। যদিও জমিতে এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তূ লকডাউনের জন্য বাজার না থাকায় সমস্যায় পড়েছি।” অনেকেই চাল কুমড়ো চাষের জন্য বিভিন্ন মাইক্রো ফিনান্স কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়েছেন। এই অবস্থায় ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন।

ময়নাগুড়ির আমগুড়ির এক কৃষক দেবারু রায় বলেন, ” আমি ঋণ নিয়ে ৪বিঘা চাল কুমড়ো লাগিয়েছি। কিন্তু যেরকম বাজার তাতে কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব তা ভেবে পাচ্ছি না।” আরেক কৃষক মহেন রায় বলেন, ” এবছর দাম না থাকায় জমিতে জাঙলা দিতে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে সেটাই উঠবে না। প্রতিবছর যেখানে ৩০ থেকে ৪০হাজার টাকা আয় হয়। সেখানে এবছর ১০ হাজার টাকা হবে কি না সন্দেহ রয়েছে।”

ভিন রাজ্যের পাইকার বাজারে না আসলেও গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট পাইকার আসছেন চাল কুমড়ো কিনতে । কিন্তু তারাও সেভাবে দাম দিয়ে কিনতে পারছেন না। ছোট পাইকারেরা জমি থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে ছোট ছোট বাজারেই বিক্রি করছেন। ফলে সেভাবে দাম দিয়ে কিনতে পারছেন না।

ময়নাগুড়ির এক পাইকার সঞ্জীব রায় বলেন,  ” আমি গ্রামে গ্রামে গিয়ে চাল কুমড়ো, করলা, চিচিঙ্গা ইত্যাদি সব্জি কিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছি। যেহেতু অন্য রাজ্যে সবজি পাঠাতে পারছি না তাই সেভাবে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আগের থেকে ধীরে ধীরে দাম বাড়ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close