fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোয়ারেন্টাইন সেন্টার যেন নরক যন্ত্রণা! পরিবারের কথা ভেবেই থাকছি: পরিযায়ী

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর): পেটের টানে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন রাজ্যের যুবকরা। ফিরেছেন নিজ রাজ্যে, নিজ এলাকায়। কিন্তু এ যেন নরক যন্ত্রনা। খেজুরিজুড়ে প্রশাসনিক, স্বেচ্ছাসেবীসংগঠনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে কোয়ারেন্টাই সেন্টার। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে মিলছে না কোনও পরিষেবা বলে ক্ষোভ।

সারা রাজ্যব্যাপী কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিযায়ীদের অবহেলার কথা উঠেছে। লকডাউনে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ভিনরাজ্য মুম্বাই থেকে ফিরেছেন অনেকেই। খেজুরি-২ ব্লকের মতিলালচকের বাসিন্দা রনজিত বারিক বলেন, খেজুরি আদর্শ বিদ্যাপীঠে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আছি। আমি মহারাষ্ট্র থেকে গত ৩০শে মে এসেছি। বাইরে থেকে এসেছি বাড়ি যেতেও চাইছি না। আমি তো বুঝতে পারছি না আমি অসুস্থ নাকি। এখানে পাণীয় জল, খাওয়ার, বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নেই। খেজুরি-২ ব্লকের বিডিও রমল সিং বির্দি বলেন, আমরা সব সমস্যার সমাধান করেছি। বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

খেজুরি-১ ব্লকের দেউলপোতা গ্রামের প্রায় ৫০জন যুবক ভিনরাজ্য উড়িষ্যা, গুজরাট, মুম্বাই, দিল্লি থেকে ফিরেছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দেউলপোতা গ্রাম্য গোষ্ঠী উদ্যোগী হয়ে দেউলপোতা ভাগবত বালিকা বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করেন। ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা যুবকদের ১৪দিন রাখা হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। আর সেই সেন্টারে নেই বিদ্যুৎ, পাণীয়জলের ব্যাবস্থা। অন্ধকার স্কুল বিল্ডিংয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে পরিযায়ীদের। একে করোনার ভয়। তারওপর আমফানের জেরে লন্ডভন্ড হয়েছে খেজুরি। গত মে মাসের ২০ তারিখ আমফান তান্ডবে আজও বিদ্যুৎহীন খেজুরি। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেই বিদ্যুতের ব্যাবস্থা। বিদ্যুৎ তো দুরস্ত মিলছে না পাণীয় জল, খাওয়ারটুকুও বলে অভিযোগ কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিযায়ীদের।

খেজুরি-১ ব্লকের বিডিও তীর্থঙ্কর রায় বলেন, দেউলপোতা গার্লস স্কুলের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার সরকার অনুমোদিত নয়। সংস্থার উদ্যোগে সেন্টার চালু হয়েছে। গ্রাম্য গোষ্ঠীর সাথে ব্লক প্রশাসন সহযোগিতা করছে। সব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। গ্রাম্য গোষ্ঠীর সম্পাদক তনুজ বেরা বলেন, জেনারেটর চালিয়ে পাণীয় জল দেওয়া হচ্ছে। টিফিন দেওয়া হয়। সকলের বাড়ি থেকেই খাওয়ার দিয়ে যান। বিদ্যুৎ সমগ্র খেজুরিতে না থাকায় সমস্যা রয়েছে। মোমবাতি, হ্যারিকেনের ব্যাবস্থা রয়েছে। তনুজ বাবু আরও বলেন, আমরা সেন্টারে ১৪দিন থাকার পরে বাড়ি ফেরানোর সময় যুবকদের হাতে ফল, মিষ্টি তুলে দিচ্ছি। সকলকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close