fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোয়ারেন্টাইন সংকট! পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সমস্যায় ময়নাগুড়ি ব্লক

নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি : ট্রেন এবং বাস চালুর পর থেকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ময়নাগুড়ির পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রতিদিন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন । অপর দিকে করোনা সংক্রমণের ঘটনাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে । আর বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।  বাইরে থেকে ফেরা শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত কোয়ারান্টিন সেন্টার তৈরী করতে পারেনি ব্লক প্রশাসন ।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায় ময়নাগুড়ির প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ভিনরাজ্যে আটকে পড়েছিলেন । তাদের জন্য ব্লকে তিনটি কোয়ারান্টাইন সেন্টার তৈরী করা হয়েছে । সেগুলিতে ৩১৫ জনের কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা রয়েছে । যা কোনভাবেই পর্যাপ্ত নয় । তাই ভিনরাজ্য থেকে শ্রমিকরা ঘরে ফিরে আসায় শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন ।

তাই বাইরে থেকে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের কেন্দ্র করে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে । জ্বর , সর্দি , কাশি , শ্বাসকষ্ট নেই বলে একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট হাতে দিয়ে ব্লক প্রশাসনের তরফে শ্রমিকদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে । কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর পরেই এলাকায় তৈরী হচ্ছে উত্তেজনা । শ্রমিকদের বাড়ি ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে । এই সব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে । বাধ্য হয়েই এলাকাবাসীরা একজোট হয়ে কোথাও মাঠে তাঁবু খাটিয়ে আবার অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শ্রমিকদের কোয়ারান্টিন করে রাখছেন । স্থানীয় আশাকর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ঠিকঠাক খোঁজখবর রাখছেন না বলে অভিযোগ । কোনো জায়গাতেই এই শ্রমিকদের করোনা টেস্ট হচ্ছে না । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোয়ারান্টিনে থাকা শ্রমিকদের খাদ্যসামগ্রী নিজ নিজ বাড়ি থেকে দেওয়া হচ্ছে । এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি করা এই কোয়ারান্টাইন সেন্টারগুলিতে ঠিক মতো স্যানিটাইজ করাও হচ্ছে না বলে অভিযোগ । সাধারণত ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকার পর শ্রমিকরা কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়াই বাড়িতে ঢুকে পড়ছেন । চূড়াভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কাকলি বৈদ্য বলেন , ‘ প্রতিদিন এলাকায় ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা ফিরে আসছেন । অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দার এবং পঞ্চায়েত সদস্য মিলে তাদেরকে কোয়ারান্টাইন করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । গুজব ছড়িয়ে কোথাও যাতে উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সেই বিষয়টি আমরা দেখছি ।’ ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায় বসুনিয়া বলেন , ‘ আমাদের ময়নাগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যক্তিগতভাবে খুবই ভালো উদ্যোগ নিচ্ছেন । আমরা তাদের সঙ্গে রয়েছি ।’ ময়নাগুড়ি বিডিও ফিন্টসো শেরপা বলেন , ‘ ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন করতে গ্রামবাসীরা খুব ভাল উদ্যোগ নিচ্ছেন । আমরাও তাদের একাজে বাধা দিচ্ছি না । সেই সব ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে শ্রমিকদের রাখা হচ্ছে । ওইসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে কোনো শ্রমিকের কোনরকম করোনার উপসর্গ থাকলে প্রশাসনের তরফ থেকে দেখা হচ্ছে । তবে আমরা পাঁচটি করোনা হটস্পট রাজ্য থেকে ফেরত শ্রমিকদের সরাসরি সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখছি ।’

Related Articles

Back to top button
Close