fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

দূষণ ঠেকাতে ‘সুপ্রিম’ নির্দেশ! রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা 

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা: ন্যাশানাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালকে ঠেকাতে রবীন্দ্র ছট পুজো বজায় করার জন্য কলকাতার মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা সিএমডিএ মামলা দায়ের করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। রবীন্দ্র সরোবরে দূষণ ঠেকাতে ছট পুজো বন্ধ করার জন্য ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল যে নির্দেশ দিয়েছিল তারওপর স্থগিতাদেশ জারি চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা ট্রাইবুনালের নির্দেশ ঠিক মতো মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে জারি করল নোটিস। ফলে এই বছর তো বটেই আগামী বছরগুলিতেও রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো হওয়া বাস্তবে অনিশ্চিত হয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপূজা যাতে না হয়, তার জন্য শহরের ১১ টি ঘাট প্রস্তুত করে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা করেছিল রাজ্য প্রশাসন। তা সত্ত্বেও গেটের তালা ভেঙে ছটপুজোর জন্য ঢুকে পড়েছিলেন পুণ্যার্থীরা। কিন্তু চলতি বছরে সমস্যা বাড়াতে না চেয়ে রবীন্দ্র সরোবরেই ছটপূজা করতে চেয়ে ন্যাশানাল গ্রিন ট্রাইবুনালে আবেদন করে রাজ্য।
যদিও সেই দাবি খারিজ করে দেয় জাতীয় পরিবেশ আদালত।

প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, সরাসরি রাজ্য প্রশাসন বললে এই রাজ্যের মানুষ শুনছেন না, তাই এটা এ রাজ্য প্রশাসনেরই মাস্টারস্ট্রোক। কোনওদিন কোনও আদালতই পরিবেশ দূষণের পক্ষে রায় দিতে পারে না, সেটা বেশ ভালভাবেই জানে রাজ্য। কিন্তু ছট পুণ্যার্থীদের পক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে পুজোর আবেদন জানালে তাতে সাধারণ মানুষজনের পক্ষেও থাকা হবে, আবার সর্বোচ্চ আদালত বারণ করলে সেখানে পুজো বন্ধ করতে বাধ্য প্রশাসন। না হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবমাননার দায়ে পড়বেন খোদ পুণ্যার্থীরাই।

কয়েক দশক কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর দিন ভিড় জমান অবাঙালি হিন্দিভাষী মানুষজন। কার্যত সেই ভিড় লাখের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। সরোবরের জলে নেমে পুজো সম্পন্ন করা ছাড়াও চলে দেদার বাজিপটকা ফাটানোর কাজ। এছাড়া ময়লা ফেলাজনিত নোংরা তো থাকেই। সব মিলিয়ে গোটা রবীন্দ্র সরোবর এলাকা ছট পুজোর জেরে অন্তত ৪-৫দিন চরম দূষণের কবলে পড়ে। তা নিয়েই রাজ্যের পরিবেশবিদরা মামলা ঠুকেছিলেন ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালে। সেই মামলায় জাতীয় সরোবরের তকমাপ্রাপ্ত রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর কোনও অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দেয় ট্রাইবুনাল। সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে সিএমডিএ। সেই মামলাতেই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে ট্রাইবুনালের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালিত হয়েছে কিনা তা রাজ্য সরকারকে পরবর্তী শুনানির দিন জানাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবিদদেরও জানাতে হবে ট্রাইবুনালের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালিত হচ্ছে কি না।

Related Articles

Back to top button
Close