fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

রবীন্দ্র সরোবরে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন ক্ষেত্র!  ভাবনায় রাজ্য সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউ টাউনের পর দক্ষিণ কলকাতায় ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সরোবর লেকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য। এমনটা হলে আগামী দিনে কলকাতার শোভা বাড়াতে পারে দক্ষিণ কলকাতার এই লেক। যদিও বিষয় টি এখনও চিন্তা ভাবনার স্তরেই রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্চে। ভ্রমণার্থী ও পর্যটকদের কাছ থেকে পরামর্শ এবং দৈনন্দিন অভাব – অভিযােগ শুনতে এই প্রথম পৃথক অফিসও চালু করেছে ভারপ্রাপ্ত সংস্থা কেএমডিএ।
বিগত কয়েক বছরে নিউটাউনের প্রকৃতি তীর্থের আকর্ষণ মন কেড়েছে আপামর কলকাতা বাসির। সেই কায়দাতেই এবারে ১০০ বছরের মর্যাদা প্রাপ্ত ঝিলের ধরেই পরিবেশ বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য। তাই সেই এক কায়দায় সাজানাের পরিকল্পনা চলছে রবীন্দ্র সরােবর লেকেও। ১৯২০ সালে কেআইটির ১৯২ একর আয়তনের এই বিশাল হ্রদ সরকার অধিগ্রহণ করে। পরিবেশের উন্নয়নে সরােবরকে সাতটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। অতিতে রবীন্দ্র সরােবরের মতাে জাতীয় জলাশয়ে পলি মাটি তােলা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। কারণ , জলাশয়ের নীচ থেকে সব পলিমাটি তুললে পরবর্তী কালে জল ধারণের সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এমনকি , পরিবেশ আদালত মনােনীত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপাের্টেও উল্লেখ রয়েছে মেশিনের মাধ্যমে ‘ ড্রেজিং ‘ করে সরােবরের পলি তােলা যাবে না । শুধু পলিমাটির উপরের অংশ তুলে ফেলা যেতে পারে । সেই কারণেই কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ পলি তােলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।

কেএমডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি , সরােবরে আবর্জনা বেশি হওয়ায় রিপাের্টের নির্দেশিকা মেনেই সম্প্রতি জলাশয়ের সব পলিমাটি না তুলে , সরােবরের পাড় বরাবর মাত্র তিন মিটার পর্যন্ত এলাকায় যেখানে আবর্জনা বেশি জমা হয় , সেই অংশটুকুর উপরিভাগের মাটি তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । তার জন্য দরপত্রও ঘােষণা করেছেন কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ । আধিকারিকদের মতে , বর্তমানে সরােবরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভাসমান বজ্র তাে বটেই , এমনকি জলের নীচে মাটির ঠিক উপরের আস্তরণে থাকা কঠিন বর্জ্যও জাল ব্যবহার করে তা তুলে ফেলা হচ্ছে । শীতকালে বা গ্রীষ্মকালে জল কমে গেলে অনেক বজ্র পাড়ের কাছাকাছি আটকে থাকে। এ ছাড়াও ভ্রমণার্থীদের ব্যবহৃত ময়লা বা প্লাস্টিক যাতে সরােবরের জলের ভিতরে না পড়ে তার জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও করছে পুর ও নগরােন্নয়ন দপ্তর। জাতীয় পরিবেশ আদালতের রায় মাথায় রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নে সরােবরের পরিবেশ সংরক্ষণে একগুচ্ছ কর্মসূচি ও প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় , পরিবেশ নিয়ে দৈনন্দিন নজরদারি এবং জনসাধারণের সরাসরি অভিযােগ গ্রহণে সরােবর চত্বরে অফিস চালু করছে পুর ও নগরােন্নয়ন দফতরের অধীন কেএমডিএ । পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে ৭৩ একরের জলাভূমিকে দুটি পৃথক জোনে ভাগ করা হয়েছে । ভারপ্রাপ্ত কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন , দুটো লেককে আলাদা দুটি জোনে ভাগ করায় পরিযায়ী পাখি ও মাছ সংরক্ষণে বিশেষ সুবিধা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close