fbpx
দেশহেডলাইন

‘কংগ্রেসে রাস্তা এখনও খোলা আছে’ পাইলটকে হাতছাড়া করতে নারাজ রাহুল! গেহলটকে সংযতর বার্তা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজস্থানে কংগ্রেসের অন্দরে ডামাডোল। সমস্যার মেঘ যেন কাটতেই চাইছে না মরুরাজ্যে ওপর থেকে। একজন বন্ধুকে হারিয়েছেন রাহুল। আর এক জন দল ছাড়ার উপক্রম। বিদ্রোহের পরও পাইলটকে হাত ছাড়া করতে নারাজ রাহুল গান্ধী। একটা সময় ছিল রাহুল গান্ধী, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং শচীন পাইলটদের মধ্যেই দলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতাদের দেখতে পেত কংগ্রেস। এদের মধ্যে একজন ইনিমধ্যেই রাহুলের সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছেন। আরেকজনও সেদিকেই পা বাড়িয়ে । সিন্ধিয়াকে রাহুল আটকানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। কিন্তু পাইলটের ক্ষেত্রে শেষ চেষ্টা করে দেখতে চান তিনি। অন্তত কংগ্রেস সূত্রের এমনটাই দাবি।

মঙ্গলবার রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে শচীন পাইলটকে সরিয়ে দেওয়ার পরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তবে কি কংগ্রেস এবার সম্পর্ক ছিন্ন করল রাজস্থানের এই তরুণ নেতার সঙ্গে। সেটা যে হচ্ছে না, তা পরিষ্কার করা হয়েছে কংগ্রেসের তরফেই। এখনও পাইলটের জন্য দরজা খোলা রাখতে চান রাহুল গান্ধী। এমনকি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকেও আক্রমণের সুর কিছুটা নরম করতে বলেছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। বুধবার পাইলট জানিয়েছেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই তাঁর কাছে। তিনিই রাজস্থানে বিজেপিকে হারাতে সর্বশক্তি লাগিয়েছিলেন। তাহলে এখন কেন তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে যাবেন। গান্ধী পরিবারের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি খারাপ করার জন্য কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলছে। এই মন্তব্যের পরেও নিজের কটাক্ষ থেকে সরে আসেননি গেহলট। তিনি বলেন, ভাল ইংরেজি বললে, ভাল ভাল মন্তব্য করলে আর দেখতে সুন্দর হলেই হয় না। মনের মধ্যে দেশের সম্পর্কে কী ধারণা রয়েছে, কোন আদর্শে বিশ্বাসী, নিজের কাজের প্রতি কতটা উদ্যম রয়েছে সবকিছুই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই আক্রমণের সুর কিছুটা কমাতে বলেছেন রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, শচীন পাইলটের কংগ্রেস ত্যাগ আটকাতে এবার নিজেই আসরে নেমেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। নিজের দূত মারফৎ রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন, “কংগ্রেসের রাস্তা এখনও খোলা আছে।”এমনকী, পাইলটকে তুষ্ট করতে অশোক গেহলটের কাছেও সংযত হওয়ার বার্তা গিয়েছে রাহুলের তরফ থেকে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহ ঘোষণার পর থেকেই রাহুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি পাইলট। কিন্তু রাহুল প্রিয়াঙ্কার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে আলোচনা চালানোর চেষ্টা করছেন। এমনকী, রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরানোর পরও রাহুল পাইলটের কাছে ‘দলে ফিরে আসা’র বার্তা পাঠিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কে বসছেন প্রেসিডেন্ট পদে! ১০ আগস্টের মধ্যে কংগ্রেসকে সভাপতি বেছে নেওয়ার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

এদিকে, ডানা ছাঁটা হচ্ছে গেহলটেরও। পাইলট রাজস্থান ত্যাগ করার পর থেকেই তাঁর উদ্দেশে একের পর এক কটাক্ষ করছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণও। বুধবারও গেহলট পাইলটকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন,”আজকালকার নেতারা অল্প বয়সেই অনেক কিছু পেয়ে যায়। সেজন্যই গুরুত্ব বোঝে না।খালি ভাল চেহারা আর ভাল ইংরেজি জানা থাকলেই বড় নেতা হওয়া যায় না।” সূত্রের খবর, গেহলটের এই মন্তব্যে বেজায় চটেছেন রাহুল। তাঁকে পাইলট সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে বারণ করা হয়েছে। কিন্তু এসবের পরেও কী রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী দলে ফিরবেন? প্রশ্ন থাকছেই। কারণ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি পাইলট।

এদিকে, মিটমাটের চেষ্টায় উদ্যোগী কংগ্রেস শচীন পাইলটকে পুুুর্নবাসন দিতে একমাস সময় চেয়ে নিয়েছে। তাঁকে আর কোনওভাবেই প্রদেশ রাজনীতির অংশ করা যাবে না। এটা বুঝতে পেরেছে হাইকমান্ড।  তাই কেন্দ্রীয় স্তরে তাঁর দায়িত্ব বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে কংগ্রেস। এমনটাই সূত্রের খবর। তবে, শর্ত ছাড়া তাঁকে ফিরতে হবে। এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে শচীন পাইলটকে।

কংগ্রেসের হাই কমান্ড তথা গান্ধী পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেছে কংগ্রেসের একাংশ। দলীয় নেতাদের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। ‘ অবশেষে’ কংগ্রেসের ‘পরিবার’ রাজের বিরুদ্ধে জেহাদের সুর শোনা যাচ্ছে। কপিল সিব্বল, শশী থারুর, প্রিয়া দত্ত, কার্তি চিদম্বরমরা প্রকাশ্যেই দলের অন্দরে প্রতিভাবান নেতাদের ‘জায়গা না হওয়া’ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। আবার কিছু বর্ষীয়ান নেতা প্রকাশ্যে না এলেও গান্ধীদের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে আড়ালে থেকে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close