fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অতীতের বাঘ শিকারের স্মৃতি নিয়ে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে রায়ডাক বন বাংলো

সুকুমার রঞ্জন সরকার, কুমারগ্রাম: ইংরেজ শাসকদের হাতে ১৯০৮ সালে তৈরি বন বাংলোতে আজও কথা বলে অতীত। আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রায়ডাক বন বাংলোতে গেলে আজও চাক্ষুষ করা যায় অতীতে ইংরেজ সাহেবদের করা বাঘ শিকারের ফ্রেম বন্দী ছবি। বাঘ শিকারের গল্প এখন শুধুই বেঁচে আছে গল্পে। এই বন বাংলোটি আজও পর্যটকদের চুম্বকের মত আকর্ষন করে শুধুমাত্র অতীতকে চাক্ষুষ করে নিভৃতবাসে শান্ত সমাহিত জঙ্গলে কয়েকদিন কাটিয়ে যাবার জন্য। জানা যায় ইংরেজ সাহেবদের কাছে এই বন বাংলোর কদর ছিল শুধুমাত্র বাঘ শিকারের জন্য। সাহেবরা এই বাংলোতে থেকে কুমারগ্রামের হাতিপোতা, বালাপাড়া, পিপিং সহ বিভিন্ন জঙ্গলে বাঘ শিকার করতেন। বক্সা বন বিভাগ গঠিত হয় ১৮৭৭ – ৭৮ সালে। ১৯০৮ সালে এই বিভাগের কর্তা হিসাবে আসেন ইংরেজ সাহেব ডকসার্ট। তিনিই গড়ে তুলেছিলেন মনোরম এই বন বাংলোটি। বন বাংলোর ভিসিটর্স বুক থেকে জানা যায় ১৯৩০ সালে জন অ্যান্ডার্সন নামে এক ইংরেজ সাহেব তিনটি বাঘ শিকার করেছিলেন যাদের দৈর্ঘ্য ছিল নয় ফুটের ও বেশী।

আরও পড়ুন: করোনার জের, বীরভুমের বেলিয়া গ্রামের প্রসিদ্ধ ধর্মরাজের মেলা এবার বন্ধ থাকছে

১৯৩৮ সালে বড়দিনের ভোজ সভা উপলক্ষ্যে শিকার অভিযানে হরিন শিকারের পাশাপাশি আরেকটি বাঘ শিকার করা হয়েছিল যেটি লম্বায় সাড়ে আট ফুটের বেশি। রায়ডাক বন বাংলো থেকে জঙ্গলের কোর এলাকায় প্রবেশ নিষেধ। বর্তমানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের দেখা না মিললেও হরিণ, ময়ুর , চিতাবাঘ, বাইসন আর বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলতেই পারে।

বন দপ্তরের নিষেধাজ্ঞার জন্য দীর্ঘদিন এই ঐতিহাসিক বন বাংলোতে পা পড়েনি কোনো পর্যটকের। আলিপুরদুয়ারের অনেক প্রবীণ নাগরিক জানান শতাব্দী প্রাচীন এই বন বাংলোতে অনেকেই নিভৃতবাসে কাটাতে চান, কিন্তু বন দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে পর্যটকদের। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উপ অধিকর্তা শ্রী হরিশ বলেন বর্তমানে বন দপ্তরের নিজস্ব কাজে বন বাংলোটি ব্যবহার করা হয়। সাধারন পর্যটকদের প্রবেশ আপাততঃ বন্ধ আছে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে কেউ অনুমতি চাইলে বিবেচনা করা হয়।

Related Articles

Back to top button
Close